বিক্ষিপ্ত পিকেটিং, ভাঙচুর-বিস্ফোরণে চলছে দ্বিতীয় দিনের হরতাল

১৮ দলীয় জোটের ডাকা টানা ৮৪ ঘণ্টার হরতালের দ্বিতীয় দিনের রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্ত পিকেটিং, ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে সকাল নয়টা পর্যন্ত রাজধানীর কোথাও বড়ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সোমবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে হরতালের সমর্থনে মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। অবিস্ফোরিত তিনটি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। একজনকে আটক করা হয়েছে।

পল্লবী থানার পেট্রোল ইনসপেক্টর সালাহ উদ্দিন জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টায় মিরপুর ১১ নম্বরে বাংলা স্কুলের ঢালে শিবিরের ১০/১২ জনের একটি মিছিল বের হয়। তারা রাস্তায় তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ছয় রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়।

এদিকে সকাল পৌনে আটটায় মিরপুরের সেনপাড়ায় চারটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এছাড়া সকাল আটটায় মিরপুর বশিরউদ্দিন স্কুলের সামনের রাস্তায় শিবিরকর্মীরা মিছিল বের করে। এ সময় তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে পুলিশ।

সোমবার ভোর সাড়ে ছয়টার রাজধানী সাতরাস্তা এলাকায় একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে পিকেটাররা। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মিয়া জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার কথা শুনেছি। তবে পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

রামপুরা থানা যুবদলের আট থেকে ১০জনের একটি দল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় তারা তিন থেকে চারটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। একই সময় তারা রাস্তায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ আসলে তারা পালিয়ে যায়।

বাড্ডা শাহজাদপুর এলাকায় হরতালের সমর্থনে শিবির কর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। এ সময় তারা একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হরতাল সমর্থকরা ফকিরাপুল মোড়ে একটি ও ইম্পেরিয়াল রেস্টহাউজের সামনে পরপর তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।

সোমবার ভোরে মহাখালী কলেরা হাসপাতালের গলিতে শিবিরকর্মীরা একটি ঝটিকা মিছিল বের করে। পরে তারা দুইটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।

হরতালের প্রথম দিন রোববার রাজধানীসহ সারাদেশে সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর, ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত ও কমপক্ষে ১৫ ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ছয় ব্যক্তি আগুনে পুড়ে আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় সারাদেশে শতাধিক পিকেটারকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রসঙ্গত, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং আটক নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ৮৪ ঘণ্টার এই হরতাল শুরু হয়েছে রোববার ভোর ছয়টা থেকে। চলবে বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।