উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় বিএনপি, তারেক রহমানের রায় আজ

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলার রায় রোববার। এ নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দলটির নেতারা। নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা প্রমাণ করতে পারেনি। এ মামলাতেও পারবে না। তবে রাজনৈতিক উদ্দেশে তারেকের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে।  তার আইনজীবীরা  বলছেন, এ মামলায় তারেক রহমানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাই রায়ে তিনি খালাস পাবেন। গত বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ মোতাহার হোসেন রোববার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর ক্যান্টনমেন্ট থানায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা করে দুদক।

অভিযোগে বলা হয়, মামুন তখনকার প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তারেক রহমানের প্রভাব খাটিয়ে টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নির্মাণ কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৩ টাকা ঘুষ নেন। সিঙ্গাপুরে একটি ব্যাংকের মাধ্যমে এই টাকা লেনদেন হয়। ওই টাকার কিছু অংশ তারেক রহমান ভিসা কার্ডের মাধ্যমে খরচ করেছেন। কিন্তু ওই টাকা সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থায় দেখানো হয়নি।

এ মামলায় ২০১০ সালের ৬ জুলাই তারেক রহমান ও মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তারেক রহমানকে পলাতক দেখিয়ে অভিযোগ গঠন করা হয়।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ মামলায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে রায় দিতে যাচ্ছে। তারা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। তারা আরো বলছেন, সরকার যত ষড়যন্ত্র করুক তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপি আন্দোলনে থাকলেও এ রায়ের দিন আনুষ্ঠানিক কোনো কর্মসূচি নেই। তবে রায় বিপক্ষে গেলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়ালের বাংলাদেশ সফরকালে ইচ্ছে করেই তারেক রহমানের মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়েছে।যাতে কোনো ধরনের কর্মসূচি দেয়া না যায়। তবে রায় বিপক্ষে গেলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।

এদিকে শনিবার এক আলোচনায় যোগ দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “ষড়যন্ত্র চলছে। কাল বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি মামলার রায় দেয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ অপ্রমাণিত ও মিথ্যা মামলার রায় হবে। এ পর্যন্ত সরকার তার বিরুদ্ধে একটি মামলাও প্রমাণ করতে পারেনি। হয়তো বা সরকারের নির্দেশে তারেক রহমানকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত কাল রায় দেবেন।”

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এসব করে আন্দোলন স্তিমিত করা যাবে না। আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্র হবে।”

এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী  বলেন, “এখনো কোনো কর্মসূচি নেই। তবে আগে রায় হোক, পরে দেখা যাবে।”

এ সম্পর্কে তারেক রহমানের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন,  “প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এছাড়া এ আদালতের এ মামলা পরিচালনা করার ক্ষমতাও নেই। আর তারেক রহমানের কোনো সম্পৃক্ততা তো নেই। তাই রায়ে তারা খালাস পাবেন।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।