জনগণের বিরুদ্ধে সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে : সালাহউদ্দিন

সরকার জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির বর্তমান মুখপাত্র ও যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ। ১৮ দলের ডাকা টানা ৭২ ঘণ্টার অবরোধের দ্বিতীয় দিন রোববার অজ্ঞাত স্থান থেকে এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন বলেন, “জাতি এখন চরম ক্রান্তিকাল পার করছে। রাষ্ট্রের শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও আইন বিভাগ এক ব্যক্তির হাতে বন্দি হয়ে আছে। ফলে রাষ্ট্রীয় নৈরাজ্য অনিবার্য হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার মসনদে বসে প্রধানমন্ত্রী দাম্ভিক আচরণ করছেন।”

‘আওয়ামী লীগ সরকারের চিরাচরিত নিষ্ঠুর ও অত্যাচারী চরিত্রই হলো গণহত্যা, গণগ্রেফতার, হামলা-মামলা ও নির্যাতন’ করা এমন মন্তব্য করে বিএনপির মুখপাত্র আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অখণ্ড, একক ও একদলীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান। এ কারণে বিরোধী দলকে দমনে হিংস্র হয়ে উঠেছে সরকার। এ অবৈধ সরকারের হাতে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনোদিনই সুরক্ষিত ছিল না। বাক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে তারা ভয় পায়।”

সালাহউদ্দিন বলেন, “এই অবৈধ সরকার দেশ পরিচালনায় সম্পূর্ণ রূপে ব্যর্থ। আমরা সরকারের এই নিষ্ঠুর অত্যাচার-নির্যাতন মোকাবিলা করে কঠিন পথ অতিক্রমের মধ্য দিয়ে গণমানুষের ন্যায়সংগত আন্দোলনকে চূড়ান্ত বিজয়ে রূপ দিতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।”

জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অবরোধ পালিত হচ্ছে, এমন দাবি করে ১৮ দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে দেশবাসী ও জোটের নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং গ্রেফতারকৃত সব নেতা-কর্মীর নিঃশর্ত মুক্তি ও ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিবৃতিতে জানানো হয়, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার পর্যন্ত সারা দেশে নিহত হয়েছেন একজন। আহত হয়েছেন চার শতাধিক; তাদের মধ্যে  গুলিবিদ্ধ ৩০০ জনেরি বেশি। এই সময়ে ২৫০ জনের বেশি গ্রেফতার হয়েছেন এবং দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করেন সালাহউদ্দিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।