স্থবির হয়ে পড়েছে দেশ, অবরোধ বাড়তে পারে

টানা হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে স্থবির হয়ে পড়েছে দেশ। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা সবকিছুতেই দেখা দিচ্ছে অচলাবস্থা। সারা দেশ থেকে রাজধানী ঢাকা প্রায় বিচ্ছিন্ন। ঢাকার ভেতরে কিছু যানবাহন চলাচল করলেও দূরপাল্লার কোনো গাড়ি ছাড়ছে না। রেল যোগাযোগও অনেকটা ভেঙে পড়েছে। সরকার শত চেষ্টা করেও রেলের নাশকতা ঠেকাতে পারছে না।

সারাদেশের মানুষ উদ্বিগ্ন। চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই সহিংসতার শেষ কোথায় কেউ জানে না। দেশে কবে স্থিতিশীলতা ফিরবে তাও অনিশ্চিত। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে হু হু করে। অর্থনীতির চাকা ঘুরছে না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। কাজ করতে না পারায় অর্থাভাবে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের সংসারেও নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।

জরুরি প্রয়োজনেও মানুষ ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস পাচ্ছে না। সম্প্রতি রাজধানীর কদমতলীতে আট জন ও শাহবাগে ১৯ যাত্রীকে নাশকতাকারীরা পুড়িয়ে দগ্ধ করায় শুধু গণপরিবহণই নয়, সিএনজি-অটোরিকশাসহ পথচারীদের মধ্যে অজানা এক আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাইরে বের হলেও গণপরিবহণের বদলে রিকশায় কিংবা হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন আতঙ্কিত মানুষ।

টানা অবরোধে সড়ক, নৌ ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পরিবহণব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে নিত্যপণ্যের সরবরাহ। ফলে একদিকে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম, অন্যদিকে সময়মতো বিক্রি না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে পচনশীল অনেক পণ্য। এর পাশাপাশি বন্দর অকার্যকর হয়ে পড়ায় আমদানি-রফতানি বাণিজ্যও বন্ধ। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না রফতানিকারকরা। অবরোধের কারণে বিভিন্ন হাইওয়ে রোডে আটকে আছে শত শত পণ্যবোঝাই ট্রাক।

এদিকে, ১৮ দলের চলমান ৭২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি মঙ্গলবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও তা বাড়তে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে এই অবরোধ চলতে পারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত। বিএনপি নেতারা জানান, টানা অবরোধ কর্মসূচি ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। সরকার তাদের দাবির কোনো তোয়াক্কাই করছে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।