অবরোধ: চতুর্থ দিনে নিহত ৯

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সপ্তাহব্যাপী টানা অবরোধে প্রাণহানি বেড়েই চলেছে। চতুর্থ দিন মঙ্গলবার রাত ৭টা পর্যন্ত ৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গত ২৪ অক্টোবরের পর থেকে সারা দেশে ৭৮ জনের প্রাণহানি হলো।

নিহতদের মধ্যে সাতক্ষীরায় বিজিবির গুলিতে দুই শিবিরকর্মী ও অবরোধকারীদের হামলায় যুবলীগকর্মী, চাঁদপুরে পুলিশের গুলিতে দুই ছাত্রদলকর্মী, চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে এক যুবদল নেতা, নোয়াখালীতে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পানিতে পড়ে বিএনপিকর্মী ও চট্টগ্রাম মহানগরে এক লরি চালক এবং পটুয়াখালীতে অবরোধে অগ্নিদগ্ধ এক ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

সাতক্ষীরার দেবহাটায় বিজিবির গুলিতে দুই শিবিরকর্মী নিহত হয়েছেন বলে দাবি সাতক্ষীরা জেলা শিবিরের সভাপতি রুহুল আমিনের। তিনি জানান, বিজিবির গুলিতে নিহতরা হলেন- শিবিরকর্মী হোসেন আলী (১৪) ও আরিজুল ইসলাম (১৬)। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে অবরোধকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, জেলার সদর উপজেলার মাহামুদপুরে গিয়াস উদ্দিন (৩০) নামে যুবলীগের এক কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে অবরোধকারীরা। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার মাহামুদপুরের তালবাড়িয়া মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অবরোধের সমর্থনে সকাল ১০টার দিকে চাঁদপুর শহরের কালিবাড়ি মোড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ১৮ দলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে সিয়াম (১৭) ও রতন ২০) নামে দুই ছাত্রদলকর্মী নিহত হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

নোয়াখালীতে সদর উপজেলার দত্তেরহাট পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পুকুরে পড়ে বিএনপির এক কর্মী নিহত হয়েছে। নিহত আবদুস সালাম (৬০) পৌরসভার গোপাই ৬ নং ওয়ার্ড বিএনপিকর্মী বলে দাবি করেন স্থানীয় বিএনপি। তিনি নাজির আহম্মেদ চাপরাশিবাড়ির মৃত হারিছ মিয়ার ছেলে।

চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডের বারককুণ্ড ইউনিয়নের শুকলালহাট এলাকায় সোমবার রাত ১১টার দিকে পুলিশের গুলিতে শরিফুল ইসলাম রাসেল (২৬) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি। রাসেল উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের হাসনাবাদ গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং হাসনাবাদ ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন।

চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার সল্টগোলা রেলক্রসিং এলাকায় সোমবার গভীর রাতে অবরোধকারীদের ধাওয়ায় গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে লরি চালক মাহবুব (২৫) নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে একটি কনটেইনার লরিতে ককটেল ছুড়ে মারে অবরোধকারীরা। এতে লরিটিতে আগুন ধরে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লরিটি পাশের গাছে ধাক্কা খেলে ঘটনাস্থলেই চালক নিহত ও অপর দুজন আহত হন।

এছাড়া অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পটুয়াখালীতে অগ্নিদগ্ধ এক ব্যক্তি মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার নাম মাওলানা আবদুস সাত্তার (৬৫)। গত শনিবার পটুয়াখালীর বদরপুর লেবুখালী দরবার শরিফের সামনে পেট্রল বোমায় দগ্ধ হন আবদুস সাত্তার। তার বাড়ি পটুয়াখালী সদরের জৈনকাঠি।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও রেললাইনে নাশকতার খবর পাওয়া গেছে। এতে করে রাজধানী ঢাকা থেকে সারা দেশ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ট্রেন লাইন তুলে ফেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল যোগাযোগ বিঘ্নিত। চন্দনাইশে জামায়াত নেতা আবদুর রহীমসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রাজধানীর সোনারগাঁও রোডে ঢাকা কলেজ ছাত্রশিবির মিছিল করেছে। এ সময় তারা তিনটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। রাস্তায় আগুন দিয়ে অবরোধ করার চেষ্টা করে। পুলিশ এ সময় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

যাত্রাবাড়ী মোডে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে অবরোধকারীরা। এ সময় তারা সিএনজি অটোরিক্সা ভাঙচুর করে। পুলিশ এখান থেকে তিনজন গ্রেপ্তার করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।