দেশব্যাপী সোমবার জামায়াতের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল

সরকারের পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। রবিবার এক বিবৃতিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ইতোমধ্যে সংসদ নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের দাবি, শীর্ষ নেতাদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং তাদের মুক্তির দাবিতে শনিবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত রাজপথ, রেলপথ ও নৌ-পথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে ১৮ দল। বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকারজামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। সরকারদলীয় লোকদের দ্বারা গঠিত তদন্ত কমিশন ও প্রসিকিউশন সেল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা কল্পকাহিনী রচনা করে ট্রাইব্যুনালে কাল্পনিক মিথ্যা সাক্ষী হাজির করে।’

‘তারা অপরিচিত মহিলাকে ভুয়া মোমেনা বেগম সাজিয়ে আদালতে হাজির করে মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করে। প্রকৃত মোমেনা বেগমের ছবি জল্লাদখানায় সংরক্ষিত আছে। ওই মোমেনা বেগমের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত করা মোমেনা বেগমের চেহারার কোনো মিল নেই’ দাবি করেন তিনি। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘ওই কাল্পনিক ও মিথ্যা সাক্ষ্য বিবেচনায় নিয়ে ট্রাইব্যুনাল আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। কিন্তু সরকার তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রায়ের ১৩ দিন পর আইন সংশোধন করে মহামান্য সুপ্রিমকোর্টে আপিল করে।’

তিনি বলেন, ‘সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ সাজানো মোমেনা বেগমের মিথ্যা সাক্ষ্য বিবেচনায় নিয়ে ও শোনা সাক্ষীর ওপর ভিত্তি করে আবদুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। আপিল বিভাগের এই রায় নজিরবিহীন।’

শফিকুর রহমান দাবি করেন, ‘সরকারের এই বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দেশি-বিদেশি আইনবিদ, মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন ও আন্তর্জাতিক মহল থেকে এই আইনকে একটি কালো আইন ও ট্রাইব্যুনালকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সম্পন্ন নয় বলে অভিমত দিয়েছেন।’

‘তারা আইন সংশোধনের সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালাও সরকারের নিকট পেশ করেছেন। সরকার সেই সব বিবেচনায় না নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিচারের নামে প্রহসন চালায়’ যোগ করেন তিনি।

জামায়াত সেক্রেটারি দাবি করেন, ‘গোটা বিচার প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়ে আছে নানা কেলেঙ্কারি। স্কাইপি কেলেঙ্কারি, ভুয়া সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন, প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে সরকারের হস্তক্ষেপ এই বিচারকে দেশে-বিদেশে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করেছে।’

‘তাছাড়া, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর বিচারপতিদের সঙ্গে আইনমন্ত্রীর বৈঠক, সরকারদলীয় নেতাদের জামায়াত নেতৃবৃন্দকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদানের ঘোষণা ইত্যাদির মাধ্যমে সরকার বিচার প্রক্রিয়াকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে’ অভিযোগ করেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারের প্রতিহিংসা পরায়ণতার সর্বশেষ নজির আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর। দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর করার সরকারি বক্তব্য। আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও দলীয় নেতৃবৃন্দ বার বার বলছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ করার কোনো সুযোগ নেই। তাদের এই বক্তব্য অসাংবিধানিক।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আবদুল কাদের মোল্লা রিভিউ করার অধিকার রাখেন। তিনি তার আইনজীবীদেরকে রায়ের সার্টিফায়েড কপি উঠিয়ে রিভিউ করার প্রস্তুতি নেয়ার জন্য পরিবারের মাধ্যমে নির্দেশ দিয়েছেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যেই কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। সরকারের আইন প্রতিমন্ত্রী যে কোনো মুহূর্তে রায় কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়, সরকার তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের একদলীয় প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। লাখ লাখ মানুষ রাজপথে। সরকার কার্যতঃ অচল হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে কাদের মোল্লাকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ হত্যা করে সরকার রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়।

জামায়াত সেক্রেটারি হুঁশয়ারি দিয়ে বলেন, ‘সরকারের অপকৌশল ও জঘন্য ষড়যন্ত্র জনগণ যে কোনো মূল্যে প্রতিহত করবে। সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক অধিকার ভুলন্ঠিত করে কাদের মোল্লাকে হত্যা করলে, তার জন্য সরকারকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।