রওশন ইন!

সরকার জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নিতে এরশাদকে বাদ দিয়ে রওশন এরশাদকে কাছে টানছে । গত দুই দিনের কিছু কর্মকাণ্ডে এ রকম  চিত্রই ফুটে উঠেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নিতে সরকার এরশাদকে ছুড়ে ফেলে রওশন এরশাদকে কাছে টানলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপার দুই শীর্ষ নেতার বৈঠক নিয়ে ধূম্রজালের মাত্রাটা আরো বেড়েছে। শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে ছিলেন আমির হোসেন, তোফায়েল আহমেদ, ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদ। জাতীয় পার্টির দুই নেতা হলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন বাবলু। এই দুই নেতা জাতীয় পার্টিতে আওয়ামী লীগঘেঁষা হিসেবে পরিচিত।

বৈঠকে জাপার এই দুই নেতা আওয়ামী লীগের কাছে ৬৩টি আসনের তালিকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে সোমবার দুপুরে এরশাদ বলেছেন, এই নির্বাচন অর্থহীন ও ক্ষণস্থায়ী। একশ আসন দিলেই কি, দুইশ আসন দিলেই কি, তাতে কিছু আসে যায় আসে না। কারণ আমি নির্বাচনে যাচ্ছি না।

প্রশ্ন ওঠেছে, এরশাদ নির্বাচনে যাচ্ছেন না-তাহলে তার দলের দুই নেতা আসন নিয়ে দর কষাকষি করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন কেন। অনেক আগে থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে গুজব রয়েছে, এরশাদকে দল থেকে বাদ দিয়ে রওশন এরশাদকে প্রধান করে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে নিতে সরকার তৎপর রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপার দুই নেতার বৈঠকটি গুজবের ডালপালাকে আকৃতি দিচ্ছে। এতে জাতীয় পার্টি (রওশন) নামে দলটিকে নতুন করে নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। এদিকে, নির্বাচনে যাবো না আবার আসন ভাগাভাগি নিয়ে দর কষাকষি-এরশাদের এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে আবারো তার ডিগবাজির আশঙ্কা করছেন দলের নেতাকর্মীরা। জাতীয় পার্টির মন্ত্রীদের পদত্যাগ নাটকও শেষ হচ্ছে না। দল থেকে বলা হচ্ছে পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেয়া হয়েছে। সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকেও যায়নি জাপার মন্ত্রীরা। আবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভুইঞা বলছেন, জাপার মন্ত্রীর পদত্যাগ করেছেন এ সংক্রান্ত কোনো খবর তার কাছে নেই।

এরশাদ ও জাতীয় পার্টির অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে সে ব্যাপারে কেউ নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।