ভোট ছাড়া ১৫৪ আসনে বিজয় নজিরবিহীন-লজ্জাজনক: ফখরুল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে  ।

তিনি বলেন, ‘দশম সংসদ নির্বাচনের আগেই ১৫৪ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন যে প্রহসনের নাটক মঞ্চস্থ করেছে, তা নজিরবিহীন এক লজ্জাজনক ঘটনা।’

রবিবার রাতে বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিবরণীতে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের পোষ্য নির্বাচন কমিশন তড়িঘড়ি করে ঘোষিত আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই দলীয় আওয়ামী ঘরানার কর্মকর্তাদের দিয়ে সাজানো প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৫৪ জন ব্যক্তিকে (আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে যে প্রহসনের নাটক নির্বাচন কমিশন মঞ্চস্থ করেছে তা নজিরবিহীন এক লজ্জাজনক ঘটনা।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই জনগণের ভোটের অধিকারের কথা বলেন, বিনা বাধায় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রয়োগ করার অধিকারের কথা বলেন, কিন্তু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি জনগণের ভোটাধিকার চূড়ান্তভাবে হরণ করার যে নজিরবিহীন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন, তা ভূতের মুখে রাম নাম জপের সমান।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল শনিবার এক ভাষণে বলেছেন- বিএনপি নির্বাচনে এলে তাদেরও একইভাবে আসন বণ্টন করা হতো। তার এই বক্তব্যে থলের বিড়াল বেরিয়ে এসেছে। তার কথায় প্রমাণ হয় তিনি জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস কখনই মনে করেন না এবং জনগণের ভোটের প্রতিও তার কোনো আস্থা নেই।’

‘আর জনগণের রায়কে তিনি ভয় পান বলেই, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস পরাজয়কে এড়ানো ও গণরোষ থেকে বাঁচার জন্য তিনি ভোটারদের অর্ধেকেরও বেশি সংসদীয় আসনে ভোট দেয়ার সুযোগ না দিয়ে তথাকথিত  প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার কলঙ্ককে বরণ করে নিতে কুণ্ঠিত হননি’, যোগ করেন বিএনপির এই মুখপাত্র।

মির্জা ফখরুল বিবৃতিতে আরো বলেন, সাজানো প্রশাসনের নির্বাচনের প্রহসন ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথিত ফলাফল বাতিলসহ নির্বাচনী কার্যক্রম অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং গণআন্দোলন বন্ধ করার এবং বিরোধী দল বিনাশী সরকারি কৌশল হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহারের মাধ্যমে হত্যা, গুমের যে অপরাজনীতি চালু করেছে  তা ভয়ঙ্কর অমানবিক নিষ্ঠুরতা যা মানবাধিকার পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে অবনতির দিকে নিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘সরকারের সৃষ্ট ভয়াবহ সংকট থেকে সরকারকেই বেরিয়ে আসতে হবে। বিরোধী দল হিসেবে আমরা গত পাঁচ বছরে চূড়ান্তভাবে নির্যাতিত হয়েও শুধু দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এখনো সংকট নিরসনে এবং সকল দলের অংশগ্রহণ ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব থেকে দূরে সরে আসিনি।’

‘কিন্তু সরকার যদি জনগণের আকাঙ্খার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, গণগ্রেপ্তার ও ঢালাও নির্যাতন অব্যাহত রাখে তাহলে দেশ রক্ষার জন্য বিরোধী দলের আরো কঠোর আন্দোলনের কোন বিকল্প থাকবে না’ বলেন বিএনপি মুখপাত্র।

রবিবার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও জয়পুরহাটে আন্দোলনরত বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বর্বোরোচিত গুলিবর্ষণে নিহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান মির্জা ফখরুল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।