বাংলাদেশিদের জীবন রক্ষায় জাতিসংঘের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি-মুনকে লেখা এক খোলা চিঠিতে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন বলেছে, বাংলাদেশে সরকারি বাহিনী প্রতিদিন নির্বিচারে বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। বাংলাদেশিদের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সংস্থাটি।

বুধবার বান কি-মুনকে লেখা ওই চিঠিতে হংকংভিত্তিক এএইচআরসি বলেছে, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের উদ্বেগজনক বাস্তবতার ব্যাপারে আপনার দৃষ্টিআকর্ষণ করতে চিঠি লিখছে এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন। ক্ষমতাসীন দল যাদের বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করছে তাদের প্রতিদিন নির্বিচারে হত্যা করছে রাষ্ট্রীয় বাহিনী। বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় র্যা ব ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী বিরোধী দলের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে চিহ্নিত লোকজনকে গ্রেপ্তার করছে এবং তাদের ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ধূলিস্যাৎ করে দিচ্ছে।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘ক্ষমতাসীন দল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বর্বরশক্তি প্রয়োগসহ সব উপায়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করছে। এর ফলে বিরোধী দলও সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘গত ২৫ নভেম্বর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে বাংলাদেশে অন্তত ১০৫ জন নিহত হয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের সরকারের প্রচেষ্টা এবং বিরোধী দলের তা ঠেকানোর চেষ্টার মধ্যে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ধরনের প্রাণহানি অবশ্যই অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এটা নিশ্চিত করার জন্য অবশ্যই সব প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’

সম্প্রতি জাতিসংঘের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর সফরের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, তার অক্লান্ত পরিশ্রমে বিবদমান দুটি দল সংলাপে বসলেও নির্বিচার হত্যাকাণ্ড কমেনি।

এএইচআরসির নির্বাহী পরিচালক বিজো ফ্রান্সিসের স্বাক্ষর করা চিঠিতে বলা হয়, ‘১৫ ডিসেম্বর থেকে ক্ষমতাসীন জোট তার ক্যাডারদের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে ‘সহায়তার’ নির্দেশ দিয়েছে। এএইচআরসি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন যে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে সহায়তার নামে ক্ষমতাসীন জোটের দুর্বৃত্তরা ইচ্ছেমত হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং সমগ্র সমাজে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিতে পারে।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘দেশের সব বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান কার্যত সরকারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে। সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে সরকার সেসব ব্যক্তিকে ইচ্ছেমত দীর্ঘদিন আটক রাখে। দেশের গণমাধ্যমগুলোকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নীরব দর্শক বানিয়ে রাখা হয়েছে এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে এগুলোকে কোনো খবর প্রচার করতে অনুমতি দেয়া হয় না। ক্ষমতাসীন সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যারাই কাজ করছে তারাই রাষ্ট্র ও তার বাহিনীর রোষানলে পড়েন।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারের সমালোচক মানবাধিকার সংগঠক ও সুশীল সমাজের সদস্যদের শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই করা হয় না, তাদের বিনা বিচারে হত্যা করা হয়। তারা বিপদ মাথায় নিয়ে থাকেন। এসব ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও বন্দি রাখা হয়।’

এএইচআরসি জানতে পেরেছে যে সুশীল সমাজের সদস্যদের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হয়। অজ্ঞাতনামা সরকারি কর্মকর্তারা তাদের জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে না জানাতে তাদের নির্দেশ দেয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘অবস্থার অবনতি চরম সীমায় পৌঁছেছে।’

চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘এএইচআরসি বিশ্বাস করে জাতিসংঘের মহাসচিবসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি অস্বাভাবিক ধরনের উদ্যোগ না নেয় তবে বাংলাদেশে ব্যাপকমাত্রায় সহিংসতা ও বর্বরতা বাড়তেই থাকবে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে সংগঠিত রক্তপাত সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যথাযথভাবে অবহিত করতে আমরা আপনার সদয় সহায়তা কামনা করছি।’

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কী হচ্ছে সেসব তথ্য সম্ভাব্য সব সূত্র থেকে নিয়ে যাছাই-বাছাই করে প্রতিদিন তা বিশ্বাসযোগ্য উপায়ে নিশ্চিত করা এবং সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের সহায়তা কামনা করেছে এএইচআরসি।

এএইচআরসির প্রতিবেদন

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।