২৬ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন

২৬ ডিসেম্বর থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ। আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে।  নির্বাচনসংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ইসির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে,  ৫০ হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করার পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।  পরিস্থিতি অনুযায়ী এ সংখ্যা বেশিও হতে পারে।

শুক্রবার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নির্বাচনসংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন।

বৈঠকের কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি জেলায় কমবেশি এক ব্যাটালিয়ন (৫০০ থেকে ৮০০ ) সেনাসদস্য এবং প্রতিটি উপজেলা বা থানায় দুই  থেকে চার প্লাটুন (প্রতি প্লাটুনে ৩৩ জন) সেনাসদস্য স্টাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবেন। ‘ইনস্ট্রাকশন রিগার্ডিং এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ অনুযায়ী নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

তবে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সিইসি বলেছেন, কোন জেলায় কতসংখ্যক সেনাসদস্য থাকবেন, সেটা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে জেলা পর্যায়ে সেনাবাহিনীর ঘাঁটি থাকবে। তাদের ডিভিশন তারাই নির্ধারণ করবে। আইনশঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এটা নির্ণয় করা হবে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আগামী ১ জানুয়ারি  থেকে একটি সেল খোলা হবে। এই সেল পরবর্তী নির্দেশ না দেয় পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রাপ্ত পরিস্থিতির বিষয়ে সম্মলিত বাহিনীকে অবহিত করবে।

বৈঠকে উপস্থিত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খখলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা তাদের এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান, চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং প্রার্থীদের নানা অনিয়ম প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা চান।

নির্বাচন কমিশন থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোরালো অভিযান চালাতে বলা হয়েছে। কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২২ ডিসেম্বর থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেফতারসহ সব ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা
ইসির কার্যপত্র অনুযায়ী প্রতি কেন্দ্রে চারজন অস্ত্রধারীসহ ১৫ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পাঁচজন অস্ত্রধারীসহ ১৬ জন দায়িত্ব পালন করবেন।

মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রতি কেন্দ্রে চারজন অস্ত্রধারীসহ ১৬ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পাঁচজন অস্ত্রধারীসহ ১৮ জন দায়িত্ব পালন করবেন।

পার্বত্য এলাকায় ছয়জন অস্ত্রধারীসহ ১৭ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আটজন অস্ত্রধারীসহ ১৯ জন পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্য কাজ করবেন।

এ ছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে ৪ জানুয়ারি মধ্যরাত (১২টা) থেকে ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ৫ জানুয়ারি মধ্যরাত (১২টা) পর্যন্ত যন্ত্রচালিত যানবাহন/নৌ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। কার্যপত্রে বলা হয়েছে, উল্লেখিত সময়ে নির্বাচনী এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, বেবিট্যাক্সি/অটোরিকশাক্সা, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো, লঞ্চ, ইজিবাইক, ইঞ্জিন বোট ও স্পিডবোট চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

মহানগর এলাকায় ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ চলাচলের ওপর উক্ত নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে। তবে ৩ জানুয়ারি মধ্যরাত (১২টা) থেকে ৭ জানুয়ারি মধ্যরাত (১২টা) পর্যন্ত মোটরসাইকেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

নির্বাচনের আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জন প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় বাকি ১৪৬টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৬১ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ২৮৬ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এই নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা চার কোটি ৩৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৭০ জন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৩৮৬ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৮ হাজার ১২৩ এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা ৯০ হাজার ৭২৪।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।