‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ ঘিরে ঢাকাকে অচলের প্রস্তুতি জামায়াতের!

‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ ঘিরে জামায়াতে ইসলামী সারাদেশ থেকে ঢাকাকে বিচ্ছিন্ন ও অচল করার কৌশল নিয়ে এগুচ্ছে। কর্মসূচিতে পাঁচ লাখের অধিক নেতাকর্মীর সমাবেশ ঘটাতে জামায়াত ইতোমধ্যে দফায় দফায় প্রস্ততি সভা শেষ করেছে। ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ কর্মসূচিকে অসহযোগ আন্দোলনে পরিণত করতে চায় দলটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়,  সর্বশক্তি দিয়ে মাঠে থাকার প্রস্তুতি নিয়েছে ১৮ দলের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী। যেকোনো  লড়াইয়ে থাকতে প্রস্তুত তারা।

জানা গেছে, গত বুধবার রাজধানীর একটি অজ্ঞাত স্থানে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী আয়োজিত একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দলটির নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহনগরীর সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন ও মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, শিবির সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল জব্বার, শিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আতিকুর রহমান, প্রচার সম্পদক আবু সালেহ মো. ইয়াহিয়াহসহ আরো অনেকে।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেকোনোভাবে কর্মসূচি সফল করার। সেক্ষেত্রে সরকারের বাধা আসবে, কৌশলে বাধা অতিক্রম করতে হবে।

জানা গেছে, রোববারের কর্মসূচিতে যোগ দিতে এরই মধ্যে সারাদেশ থেকে সিংহভাগ নেতাকর্মী ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।

ইচ্ছা করেই জনশক্তির একটা অংশকে আপাতত ঢাকায় আনছে না দলটি। রোববার কর্মসূচির সময় রওনা হবেন নেতাকর্মীরা। সারাদেশ থেকে ঢাকায় আসার পথে সরকারদলীয় সমর্থক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বাধার মুখে পড়তে পারে। একারণেই ঢাকার আশেপাশের এলাকাগুলোয় থাকতে বলা হয়েছে সংগঠন থেকে।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিলসহ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার রাজপথ বা প্রবেশপথগুলো দখলে রাখতে চায় জামায়াত। এজন্য এ কর্মসূচিতে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে দলটি। ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’তে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটাতে মরিয়া শীর্ষ নেতারা। এজন্য জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। কর্মসূচি সফল করতে ৫ লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকের জমায়েত ঘটিয়ে ঢাকাকে অচল করতে চান তারা।

সারাদেশ থেকে শেষ বারের মত ঢাকা শহরকে বিচ্ছিন্ন করে দিতেই তাদের সব প্রস্তুতি।  মূলত ঢাকার চারপাশ ঘিরেই অবস্থান করবে এসব নেতাকর্মীরা। সরকার দলীয় সমর্থক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রুখে দিতে সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে লড়াই করবে তারা।

জানা গেছে, কর্মসূচি সফল করতে রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে সংগঠিত হবেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।  তবে ওই স্থানগুলোর নাম বলতে রাজি হননি কেউ। সেগুলোতে নেতৃত্ব দেবেন শিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি রাশেদুল হাসান, উত্তরের সভাপতি রাকিবুল হাসান, দক্ষিণের সভাপতি শাহিন আহমেদ খান ও পশ্চিমের সভাপতি তামিম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের একজন সদস্য বলেন, “দলের পক্ষ থেকে যে প্রস্তুতি রয়েছে, তাতে আমরা কিছু করতে পারব বলে আশা করি। আমাদের বিশ্বাস, জোটের প্রধান শরিক বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোও সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে নামবে।”

তিনি আরো বলেন, “রাজধানীতে বিএনপির ভূমিকার ওপর নির্ভর করবে জামায়াত-শিবিরের পদক্ষেপ। বিএনপি যদি শক্তভাবে না নামে, তার খেসারত তাদের দিতে হবে।”

এ ব্যাপারে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য এইচএম হামিদুর রহমান আজাদ নতুন বার্তা ডটকমকে বলেন, “১৮ দলীয় জোট ঘোষিত ২৯ ডিসেম্বরের ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ সফল করার লক্ষ্যে জামায়াতের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে জামায়াতের কয়েক লাখ নেতাকর্মী  ঢাকায় পৌঁছেছে। আরো পথে রয়েছে। এছাড়া ঢাকার জনশক্তি তো আছেই “

আজাদ বলেন, “মার্চ ফর ডেমোক্রেসিতে লাখ লাখ লোকের সমাগম ঘটিয়ে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে সরকারের পতন নিশ্চিত করা হবে। যেকোনো মূল্যে একদলীয় পাতানো নির্বাচন প্রতিহত করা হবে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।