২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে: হাসিনা

আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে তার দল ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবে বলে জানিয়েছেন । তাই এবারও দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন” চেয়েছেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেছেন, “২০০৮ সালের নির্বাচনে আমরা যেসব অঙ্গীকার করেছিলাম, তা সততা ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করেছি। আজ দৃপ্ত কণ্ঠে বলতে পারি, অতীতের অন্ধকার ঘুচিয়ে বাংলাদেশ এখন আলোকোজ্জ্বল সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা সবাই আলোর পথের যাত্রী।”

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আসুন, আমরা বিভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে শান্তি, উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই। দেশ গড়ার সংগ্রামে জনগণের জয়, বাংলাদেশের জয় অনিবার্য।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে দেশবাসীর উদ্দেশে দেয়া নির্বাচনী ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

দেশবাসীকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আপনারাই আওয়ামী লীগ ও মহাজোটকে নির্বাচিত করেছিলেন। আমরা দেশসেবার সুযোগ পেয়েছিলাম। আপনাদের নির্বাচিত সরকার তার অঙ্গীকার পালন করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা আপনাদের কাছে দেয়া ওয়াদার চাইতেও বেশি কাজ করেছি।”

আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, “গণতন্ত্রের প্রধানতম শর্ত হচ্ছে জনগণের ক্ষমতায়ন। আজ নিজেদের পছন্দের সরকার গঠনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট  জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর জনগণের এই অধিকার হরণ করা হয়েছিল। কারচুপি, জবরদখল, অর্থ ও পেশিশক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে গত ৩৮ বছরে বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।”

বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা প্রসঙ্গে তার নিজের উদ্যোগ ও দলের সাধারণ সম্পাদকের বৈঠকের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম, জনগণের ওপর আস্থা রেখে প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ নেবে। কিন্তু আমাদের আন্তরিক চেষ্টা সত্ত্বেও বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে নাই।”

বিরোধী দলের আন্দোলন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, “হরতাল ও অবরোধের নামে মানুষকে জিম্মি করে সন্ত্রাস ও নাশকতা সৃষ্টি করেছে। মলোটভ ককটেল আর পেট্রোলবোমা দিয়ে পুড়িয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। পুলিশ, বিজিবিসহ অনেককে হত্যার শিকার হতে হয়েছে। রাস্তা কেটে, রেললাইন উপড়ে ফেলে, গাছ কেটে জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে তারা চেষ্টা করেছে।” শেখ হাসিনা ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “গত পাঁচ বছরে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার ও উপনির্বাচনে আপনারা যেভাবে ভীতিমুক্ত পরিবেশে ভোট দিয়েছেন, তেমনিভাবে আগামী ৫ জানুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে আপনারা ভোট দেবেন। পছন্দের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবেন।”

দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “আপনাদের ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করলে ইনশাল্লাহ ২০২১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করতে সক্ষম হব। অতীতের মতো এবারও আমরা দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন চাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এবং ‘হক-ভাসানী-সোহরাওয়ার্দী’র প্রতীক, স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক নৌকা। সেই নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আসুন, আমরা বিভেদ ভুলে সম্মিলিতভাবে শান্তি উন্নয়ন গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলি। দেশ গড়ার এই সংগ্রামে জনগণের জয়, বাংলাদেশের জয় অনিবার্য।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।