১৭টি লাশের মিছিল আর ব্যাপক সহিংসতার মাঝে শেষ হল ভোটগ্রহণ

বিতর্কিত ও একতরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাপক সহিংসতায় এবং ১৭টি লাশের মিছিলের উপর দিয়ে শেষ হয়েছে ভোটগ্রহণ। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত  ৫৯ জেলার ১৪৭টি আসনে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। এখন চলছে ভোট গণনার কাজ।

প্রতিটি জাতীয় নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলেও এবারের নির্বাচনে ছিল না কোনো উৎসবের আমেজ। উপরন্তু ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। এজন্য ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। কোথাও কোথাও ধারণার চেয়েও কম ভোট কাস্ট হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক সহিংসতায় কয়েকশ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার রাত থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত সহিংসতায় সারা দেশে ১২ জন নিহত হয়েছেন।

সারা দেশে এখন পর্যন্ত নির্বাচনী সহিংতায় ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রংপুরে দুই জামায়াত কর্মী, ঠাকুরগাঁওয়ে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, নীলফামারীতে জামায়াত কর্মীসহ দুইজন, দিনাজপুরে বিএনপি কর্মী ও আনসার সদস্য, লালমনিরহাটে যুবদল কর্মী, ফেনীতে দুই বিএনপি কর্মী, মুন্সীগঞ্জে পুলিশের ধাওয়ায় পুকুরে পড়ে একজন এবং লক্ষ্মীপুরে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যালট পেপার ছিনতাই, ভোটকেন্দ্রে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন নাশকতার খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ফলাফলের প্রতি নেই কারো কোনো আকর্ষণ। ইতিমধ্যে কয়েকটি আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারি দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। যদিও বিরোধী দল এটাকে হাস্যকর ও তামাশার নির্বাচন হিসেবে আখ্যায়িত করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।