জনগণ না চাইলে কারো শক্তি নেই ক্ষমতায় থাকার: মন্তব্য খালেদার

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “জবরদস্তির নির্বাচনের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে আওয়ামী লীগ। এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। এটি আন্দোলন ছাড়া হবে না।”

শনিবার বিকেলে রাজবাড়ীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ খুশি রেলওয়ে ময়দানে জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।  জেলা বিএনপি আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

আওয়ামী  লীগের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, “আমি এটাকে সরকার বলি না। এটা অবৈধ সরকার। আওয়ামী লীগ জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা বিরোধী দলকে সভা-সমাবেশ করতে দেয় না। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না “

খালেদা জিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারি জবরদস্তি নির্বাচন করেছে। জনগণ ওই নির্বাচনে ভোট দিতে যায়নি। ভোট কেন্দ্র ফাঁকা ছিল। আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না, আগামী দিন নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে, এটা ৫ জানুয়ারি জনগণ জানিয়ে দিয়েছে “

জনগণ না চাইলে কারো শক্তি নেই ক্ষমতায় থাকার- এমন মন্তব্য করে খালেদা জিয়া বলেন, এ জন্য সরকার জনগণের বিরুদ্ধে নেমেছে। গুলি করে মানুষ মারছে। এই সরকারকে সরাতে জনগণকে আন্দোলনে নামার আহ্বান জানান তিনি।

দেশে মানবাধিকার নেই অভিযোগ করে বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন,  “প্রতিনিয়ত মানুষ গুম হচ্ছে, খুন হচ্ছে। মানুষ আজ আর ঘরে থাকতে পারে না। লাশ পাওয়া যায় খালে-বিলে-জঙ্গলে। পঁচাত্তর সালেও আওয়ামী লীগের আমলে এ অবস্থা হয়েছিল। ৪০ হাজার মানুষ হত্যা করা হয়েছিল তখন। মানুষ তখনো ঘরে থাকতে পারত না। সেখানে-সেখানে মানুষের লাশ পাওয়া যেত।”

খালেদা বলেন, “আওয়ামী লীগ রক্তপিপাসু দল। এর আগে ক্ষমতায় এসেই তারা সেনাবাহিনীর ৫৭ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করে। তারা জীবন নিতে জানে, রক্ষা করতে জানে না। তারা দেশকে রক্ষা করতে পারে না। তারা জন্তুর চেয়েও ভয়ংকর।”

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। এরা দখলদার সরকার। তাই এদের সরাতে হলে আন্দোলনের বিকল্প নেই।” এ জন্য তিনি নতুন প্রজন্মকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান।

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, জঙ্গি ইস্যু এসব সরকারের পরিকল্পিত বলে দাবি করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখন অন্যায়-অপকর্ম করে বেকায়দায় পড়ে, তখন তারা এসব ঘটিয়ে মানুষের দৃষ্টি অন্যত্র সরাতে চায়।

এর আগে তিনবার রাজবাড়ীতে জনসভার সময় নির্ধারণ হলেও নানা কারণে তা বাতিল হওয়ায় বক্তব্যের শুরুতেই এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

বিকেল সোয়া চারটায় খালেদা জিয়া জনসভা মঞ্চে উপস্থিত হন। এ সময় নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে তাকে স্বাগত জানান। খালেদা জিয়া হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন। বেলা ১১টার পর ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে রাজবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দেন খালেদা।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর এটাই খালেদার প্রথম রাজবাড়ী সফর। আর গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ঢাকার বাইরে বেগম খালেদা জিয়ার  প্রথম জনসভা এটি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।