দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আক্রান্ত বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা

দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা আক্রান্ত  বলে প্রতিবেদনে  দিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট প্রকাশিত ‘ডব্লিউজেপি রুল অব ল’ ইনডেক্স-২০১৪’ শীর্ষক  ।

বিশ্বের মোট ৯৯টি দেশ পর্যবেক্ষণ করে বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনের ফলাফল অনুযায়ী ৯৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯২তম।

প্রসঙ্গত, ‘রুল অব ল’ হলো পরিমাণগতভাবে মূল্যায়নের এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে তাত্ত্বিকভাবে নয়, বরং ব্যবহারিকভাবে কোন দেশগুলোতে আইনের শাসন কতটা কার্যকর তা যাচাই করা হয়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, দেশটিতে আইনের শাসন বাস্তবায়নের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রয়েছে ব্যর্থতা। পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যেও সীমাহীন দুর্নীতি লক্ষ্যণীয়। শুধু তাই নয়, সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করলে তা নিয়ে বা তাদের অপকর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার ক্ষেত্রেও ব্যাপক ব্যর্থতা উল্লেখযোগ্য।

দীর্ঘ প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছে, মোট আটটি সূচকের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে কম স্কোর করেছে দুর্নীতি, দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার সূচকে। এখানে দুর্নীতির প্রচলন রয়েছে এবং বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা উল্লেখযোগ্য।

প্রতিবেদন অনুযায়ী- সীমিতভাবে সরকারি ক্ষমতার প্রয়োগ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৭তম। এছাড়া, দুর্নীতির অনুপস্থিতি সূচকে ৮৯তম, নিরাপত্তা সূচকে ৭২তম, মানুষের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ৮৭তম, সরকারের জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে ৮৯তম, নিরাপত্তা বাহিনীতে স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে ৯০তম, জনসাধারণের ক্ষেত্রে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা বা দেওয়ানি বিচার সূচকে ৯৭তম এবং অপরাধীদের ক্ষেত্রে বিচার ব্যবস্থা বা ফৌজদারি বিচার সূচকে ৮৩তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়- সরকারের জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা তো অবলম্বন করা হয়ইনি, এমনকি দেশটির প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানগুলো এবং আদালতের কার্যক্রমেও ব্যাপক দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কাজে অদক্ষ হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্যণীয়। এছাড়া বেশ কিছু ঘটনায় জনসাধারণের মৌলিক অধিকার হরণে এবং তাদের উপর সরকারের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর যথেচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে বা হয়ে থাকে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়- নিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালো করেছে অন্য সূচকগুলোর চাইতে, কারণ এই সূচকে দেশটির অবস্থান ৭২তম। বাকি সূচকগুলোতে এর চাইতেও অনেক বেশি পিছিয়ে আছে দেশটি।

তবে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম উল্লেখ করে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, উচ্চ বা মধ্য আয়সম্পন্ন অনেক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের যা হার সে তুলনায় অনেক দেশের চাইতে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

৯৭টি দেশের বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত আড়াই হাজার বিশেষজ্ঞ এবং ৯৭ হাজার মানুষের সঙ্গে কথা বলে তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে ‘দ্য ডব্লিউজেপি রুল অব ল’ ইনডেস্ক ২০১২’ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবগুলো সূচকে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে শ্রীলংকা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।