ব্যাপক অনিয়ম ও সহিংসতার মধ্য দিয়ে ৮১ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শেষ: নিহত ৩

তৃতীয় দফা ৮১টি উপজেলার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আগেই সহিংসতার আশঙ্কা করেছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারই বাস্তবায়ন দেখা গেছে শনিবারের নির্বাচনে  ।

সকাল ৮টা থেকে একটানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলেছে ভোটগ্রহণ। ভোটগ্রহণ শেষে গণনাও শুরু হয়ে গেছে। সন্ধ্যা নাগাদ কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ উৎসবমুখর ভোটের পরিবর্তে বেশিরভাগ উপজেলা থেকেই এসেছে সহিংসতার খবর। সংঘাতে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছে।
কেন্দ্র দখল করে জাল ভোট দেয়া, ভোটারদের আসতে বাধা দেয়া, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগে বিএনপি, বিকল্পধারা প্রার্থীরা ৭টি উপজেলায় দুপুরের মধ্যেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে তারা তিনটি উপজেলায় আগামীকাল রবিবার হরতালও আহ্বান করেছে।

অবশ্য নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে থাকা ইসির দাবি, ছোটখাট গোলমাল হলেও ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু এবং সুন্দর হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ দাবি করেছেন, ৫ হাজার ৪৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি কেন্দ্রে সহিসতা খুব বেশি সমস্যা নয়।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর দাবি, সারা দেশে প্রায় সব কেন্দ্র দখল করে সরকারি দলের ক্যাডাররা জাল ভোট দিয়েছে।
তফসিল অনুযায়ী, ৮৩ উপজেলায় শনিবার নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সহিংসতার কারণে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচন স্থগিত করে ইসি।
ফলে তৃতীয় পর্বে ৪১ জেলার ৮১টি উপজেলা জেলা নির্বাচনে মোট ১ হাজার ১১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪১৯, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪২৩ এবং সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৭৭ জন।
মোট ভোটার ১ কোটি ৩১ লাখ ৮৫ হাজার ১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩২ জন, মহিলা ভোটার ৬৬ লাখ ১৭ হাজার ১৮১ জন।
ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৫ হাজার ৪৫৬টি, ভোটকক্ষ ৩৮ হাজার ১৮৯টি। প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকেন্দ্রে একজন করে ৫ হাজার ৪৫৬ জন। সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার প্রতি ভোটকক্ষের জন্য এক জন করে মোট ৩৮ হাজার ১৮৯ জন। এছাড়া ৭৬ হাজার ৩৭৮ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।