পারলে তথ্য-উপাত্ত দিয়ে তারেকের বক্তব্য খণ্ডন করুন: রফিকুল ইসলাম

সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের এমপি-নেতাদের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, “পারলে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য খণ্ডন করুন। কারণ তিনি (তারেক) যা বলেছেন, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে বলেছেন।”

সম্প্রতি লন্ডনে দেয়া তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে সরকারি দলের নেতাদের দেয়া বক্তব্যের জবাবে ব্যারিস্টার রফিক এ কথা বলেন।

রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘স্বপ্ন সম্ভাবনার নতুন বাংলাদেশ ও তারেক রহমান’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার  সরকারি দলের নেতাদের উদ্দেশে আরো বলেন, “জিয়াউর রহমান ও তার পরিবার এবং বিএনপিকে নিয়ে আপনারা বিষোদগার করবেন, আর আমরা মুখে তালা দিয়ে থাকব, তা হবে না।”

রফিকুল ইসলাম মিয়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সংসদে সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিদের বক্তব্যের সমলোচনা করেন। তিনি বলেন, একজন মানুষের অনুপস্থিতিতে তাকে নিয়ে সংসদে এমপিরা বক্তব্য দিতে পারেন না। এটা সংসদীয় আচরণের(রুলস অব বিজনেস) পরিপন্থী।”

স্পিকারের সমালোচনা করে রফিকুল বলেন, “তিনি একজন উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবী মানুষ। কিন্তু তারেক রহমানকে নিয়ে যে ধরনের বক্তব্য দেয়া হয়েছে, তা তিনি বন্ধও করেননি, প্রত্যাহারও করেননি। এতে আমি মর্মাহত হয়েছি।”

‘বিএনপি অবৈধ দল’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন মন্তব্য প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলার সময় উচ্চ আদালতের একটি রায়ের কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেই রায়ে বিএনপিকে অবৈধ বলা হয়নি।”

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক এমন দাবি করে ব্যারিস্টার রফিক আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা বলছেন জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। আমার প্রশ্ন- কেন সেদিন জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হয়েছে। আওয়ামী লীগের এত নেতা  কোথায় ছিলেন? এই দলটি কি ব্যাংকক্রাফট হয়ে গিয়েছিল?”

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদও তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতে সংসদে তাকে নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সমালোচনা করেন।  তিনি বলেন, “তারেক রহমান সম্প্রতি যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে আমার কাছেও তথ্য আছে।” তারেকের বক্তব্য এবং নিজের কাছে থাকা তথ্য দিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে বই প্রকাশ করলে সমালোচকদের মুখ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন ড. এমাজউদ্দীন।

সংগঠনের ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ চানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ হালিম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম আজাদ  প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।