বিএনপি নেতা খোকনের মামলার রায় যেকোনো দিন

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার মেয়র ও বিএনপি নেতা পলাতক জাহিদ হোসেন খোকনের মামলার রায় যেকোনো দিন দেয়া হবে মর্মে অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছে ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ সিএভি করেন।

এর ফলে ট্রাইব্যুনাল-১ এ দুটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় থাকলো। এর আগে গত ২৪ মার্চ জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় অপেক্ষমান রাখে ট্রাইব্যুনাল।
খোকনের পক্ষে রাষ্ট্রনিয়োগ দেয়া আইনজীবী আবদুশ শুকুর খান তার যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন।

এর আগে বুধবার শেষ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকউটর মোখলেছুর রহমান বাদল। তিনি খোকনের বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগের মধ্যে সবগুলোর বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছেন।

গত ৯ এপ্রিল শুরু করে ৩ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর এক দিনেই যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে আসামিপক্ষের আইনজীবী।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে খোকনের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ার আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে আসামিপক্ষ দাবি করে তার মক্কেল খালাস পাবেন। প্রসিকিউশন তাদের আনীত অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।

গত বছরের ২১ নভেম্বর থেকে গত ২ এপ্রিল পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা সত্যরঞ্জন দাশসহ খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ২৪ জন সাক্ষী। অন্য সাক্ষীরা হচ্ছেন আবুল কাশেম, কানাই লাল মণ্ডল, ইকরাম মোল্লা, মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুল হাই মোল্লা, মো. ইউনুস মোল্লা, মো. ইদ্রিস সরদার, আব্দুল আজিজ মাতুব্বর, মো. হাফিজুর রহমান চানু, আলাউদ্দিন শেখ, রবীন্দ্রনাথ দত্ত, জগন্নাথ দত্ত, হান্নান মুন্সি, রমেশ চন্দ্র রায়, মো. আবুল কাশেম মাতুব্বর, মো. আবদুস সালাম মাতুব্বর, কলম শেখ, মো. ইয়াকুব আলী, মো. চুন্নু শেখ, ভূক্তভোগী একজন নারী সাক্ষী (ক্যামেরা ট্রায়াল), আব্দুল গফুর মোল্লা, মঞ্জুয়ারা বেগম, মো. বতু মিয়া এবং জীবন কৃষ্ণ দাশ।

আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী নেই।

গত বছরের ১৯ নভেম্বর খোকনের বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।

এর আগে ৯ অক্টোবর মানবতাবিরোধী অপরাধে খোকন রাজাকারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগে  (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ৩০ জুলাই খোকন রাজাকারকে হাজির হতে দু’টি জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে পলাতক খোকনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ ও ডেইলি স্টারে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।

গত বছরের ১৮ জুলাই প্রসিকউশনের দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নিয়ে বিএনপির এ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৩ জুন প্রসিকউটর মোখলেসুর রহমান বাদল ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে খোকনের বিরুদ্ধে  গ্রেফতারি পরোয়ানা  জারির আবেদন করেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।