লংমার্চে যারা বাধা দেবে তারা গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত হবে: রিজভী

বিএনপির তিস্তা অভিমুখে লংমার্চে যারা বাধা দেবে তারা গণশত্রু হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, “জাতীয় স্বার্থের কর্মসূচিতে যারা বাধা দেবে তারা জনগণের সামনে উন্মোচিত হবে। জনগণ তাদের বিচার করবে। তারা গণশত্রু।”

রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে দলটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের পরিবেশ ধ্বংস করে ভারত একেক করে অভিন্ন নদীগুলোতে বাঁধ নির্মাণ করছে। অথচ তারাই (ভারত) পরিবেশের কথা বলে, বন্ধুত্বের কথা বলে। তিস্তা নদীর পানি সরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকে মরুকরণের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তিস্তা অববাহিকার ৩/৪ কোটি লোককে জীবন মরণের স্বন্ধিক্ষণে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। অথচ তাদের প্রতি সরকারের প্র্রেমের কমতি দেখছি না।”

তিনি বলেন, “বর্তমান অবৈধ সরকার নিজ দেশের পানি হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে ভারতের স্বার্থ দেখতে একেবারে অন্তঃপ্রাণ হয়ে পড়েছে।”

লংমার্চ সফলের জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করে রিজভী আহমেদ বলেন, “ঢাকা থেকে শুরু হওয়া লংমার্চ যে সব জেলার ওপর দিয়ে যাবে সেসব এলাকার নেতাদের সর্বোচ্চ নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। তারাও জোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”

এর আগে লংমার্চ কর্মসূচি সফল করতে রোববার সকালে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে লিফলেট বিতরণ করেন রিজভীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় রিজভী বলেন, “তিস্তার পানির সঙ্গে এ দেশের মানুষের জীবন-মরণ সম্পর্ক। এ পানির ন্যায্য হিস্যা আমাদের অধিকার। অথচ ভারত সরকার জোর করে বাঁধ দিয়ে আমাদের অধিকার হরণ করছে। এটি অন্যায়। এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ন্যায়সঙ্গত।”

রিজভী বলেন, “নতজানু হতে দেশ স্বাধীন করিনি। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতেই আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।”

বর্তমান সরকারকে অবৈধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “লংমার্চে বাধা দিলে প্রমাণিত হবে এ সরকার জনগণের সরকার নয়, ভারতের সরকার এবং তাতে তারা জনগণ থেকে আরো বিচ্ছন্ন হয়ে যাবে।”

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, নির্বাহী কমিটির সদস্য বেলাল, নারী নেত্রী শিরিন সুলতানা, জাসাসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।