জনবিচ্ছিন্ন, অবৈধ সরকার তিস্তায় পানি আনতে পারবে না: ফখরুল

তিস্তা অভিমুখে বিএনপির লংমার্চ সিরাজগঞ্জের কড্ডায় তৃতীয় পথসভা করেছে। বেলা ২টার দিকে এই পথসভা শেষে লংমার্চ বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সরকার জনবিচ্ছিন্ন, অবৈধ। তারা তিস্তায় পানি আনতে পারবে না।’

তিনি বলেন, তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে দ্রুত নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তিস্তার ন্যায্য হিস্যা আদায়ে অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার, ভারত ও আন্তর্জাতিক মহলে চাপ সৃষ্টির জন্যই লংমার্চ করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল সিরাজগঞ্জবাসীর উদ্দেশে বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনে সিরাজগঞ্জের ১৬ বিএনপি নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছে। তাদের এই আত্মত্যাগ বিএনপির পরবর্তী আন্দোলনে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এডভোকেট আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে এই পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুর রশীদ আবেদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক শিকদার, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা প্রমুখ।

এর আগে বিএনপির লংমার্চ চলাকালীন টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দুটি পথসভা হয়েছে। টাঙ্গাইলের দ্বিতীয় পথসভায় মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ‘বর্তমান সরকার ভারতের কাছ থেকে তিস্তা নদীতে পানি আনতে পারবে না। কারণ দরকষাকষির জন্য বাংলাদেশের হাতে থাকা সব হাতিয়ার তারা ভারতকে দিয়েছে।’

টাঙ্গাইলের আগে কালিয়াকৈরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথম পথসভা করেন লংমার্চে অংশ নেওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেখানে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের ৫৪টি নদী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এগুলো আন্তর্জাতিক নদী। তাই নদীর ন্যায্য হিস্যা পাওয়া আমাদের অধিকার। এই সরকার আমাদের অধিকার আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, যারা অধিকার আদায়ে ব্যর্থ, তাদের উত্খাত করতে হবে। ভবিষ্যতে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন মির্জা ফখরুল।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর উত্তরা দিয়ে দুদিনের এই কর্মসূচি শুরু হয়। উত্তরার আজমপুর ওভার ব্রিজের কাছে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যদিয়ে লংমার্চ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

উত্তরা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রায় অর্ধশত গাড়ি নিয়ে লংমার্চে অংশ নেন। সেখানে উদ্বোধনী বক্তৃতায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিস্তা অভিমুখে লংমার্চ ভারত বিরোধিতার জন্য নয়, দেশ এবং দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্যই বিএনপি এই কর্মসূচি দিয়েছে।’

তিনি লংমার্চে সরকারকে বাঁধা না দিতে আহ্বান জানান। বলেন, বাঁধা দিলে এর পরিণাম ভালো হবে না। প্রাণবৈচিত্র ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে আমরা আশা করছি সরকার লংমার্চে সহযোগিতা করবে।

কর্মসূচি: আজ সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড়ে তৃতীয়, বগুড়ায় চতুর্থ ও গাইবান্ধায় পঞ্চম পথসভা করবে বিএনপি। আজকের কর্মসূচি শেষে রংপুরে অবস্থান করবেন লংমার্চে অংশ নেওয়া বিএনপির নেতাকর্মীরা।

পরদিন বুধবার সকাল ৯টায় রংপুরে জনসভা হবে। সেখান থেকে লংমার্চ তিস্তা ব্যারাজ অভিমুখে রওনা দেবে। বেলা ১১টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া এলাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে লংমার্চ শেষ হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।