বন্ধুত্ব মানলে তিস্তায় ১০ হাজার কিউসেক পানি দিতে হবে: ফখরুল

তিস্তায় ১০ হাজার কিউসেক পানিপ্রবাহ দাবি করেছে বিএনপি। বন্ধুত্ব চাইলে পানির এই ন্যায্য হিস্যার দাবি মেনে নিতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দুদিনের লংমার্চের শেষ দিন বুধবার তিস্তা হেলিপ্যাড মাঠে মূল সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ ছোট হতে পারে, কিন্তু আমরা ১৬ কোটি মানুষ, ১৬ কোটি সৈনিক। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই কোন শক্তির ক্ষমতা নেই আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বে আঘাত করার। ন্যায্য অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করার।’

ভারত অবৈধভাবে অধিকার হরণ করেছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘জনগণরে এই অধিকার আদায়ের জন্য জনগণের সরকার গঠন করতে হবে। অনির্বাচিত নতজানু সরকার দিয়ে এই অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। এই বন্ধুত্ব মানলে আমাদেরকে ১০ হাজার কিউসেক পানি দিতে হবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে অভিন্ন ৫৪টি নদীর উজানে বাঁধ দিয়ে বাংলাদেশকে মরুকরণের ষড়যন্ত্র করছে ভারত। কিন্তু আমাদের বর্তমান এই সরকার এর প্রতিবাদে কিছুই করছে না।’

‘কারণ বর্তমান জনগণের সরকার নয়। তাই জনগণের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন জনগণের সরকার। এজন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচনের জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে’ যোগ করেন তিনি।

সমাবেশে বিএনপি নেতারা বলেন, তিস্তায় পানি দেয়ার নামে ভারত তামাশা করছে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বর্তমান অনির্বাচিত সরকার দিয়ে জনগণের ন্যায্য দাবি আদায় করা যাবে না।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, লে. জেনারেল (অব.)  মাহবুবুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, জামায়াত নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বিএনপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মহিলা দলের সভানেত্রী নুরে আরা সাফা, সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম প্রমুখ।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে রাজধানী ঢাকার উত্তরা মোড়ের আমির কমপ্লেক্সের সামনে থেকে লংমার্চ যাত্রা শুরু করে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

লংমার্চে গাজীপুর, টাঙ্গাইলে, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়িতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থকের উপস্থিতিতে এতে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

লংমার্চে অংশ নেয়া নেতাকর্মীরা রংপুরে রাত যাপন করেন। পরে বুধবার সকালে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যদিয়ে লংমার্চের দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ডালিয়া পয়েন্টে মূল সমাবেশের মধ্যদিয়ে দুদিনের লংমার্চ শেষ হয়।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।