গুম-অপহরণ: সরকারের অবস্থানের সমালোচনায় সুরঞ্জিত

গুম ও অপহরণ নিযে সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, “সম্প্রতি এটি সীমা অতিক্রম করেছে।আমাদের সরকারের সামনে দুটি চ্যালেঞ্জ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।অপহরণ গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা রয়েছে তাদের চক্রকে খুঁজে বের করতে হবে।”

সোমবার দুপুরে রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সামাদ আজাদের স্মরণে এ সভার আয়োজন করে।

সুরঞ্জিত বলেন, “গতকাল নারায়ণগঞ্জে প্যালেন মেয়রসহ পাঁচজনকে অপহরণ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে উকিলও রয়েছেন। তারা কেউ সরকারের বাইরের লোক নন। সরকারের বাইরে আরেকটি সরকার থাকলে হবে না। অপহৃত সবাই সরকারের লোক। যদি ত্বকি হত্যার বিচার হতো তাহলে নারায়ণগঞ্জে আবু বক্কার সিদ্দিকের অপহরণ ও পাঁচজনের অপহরণের ঘটনা ঘটত না।”

তিনি বলেন, “যারা অপহরণ হয়েছেন তারা কিন্তু সবাই বিরোধীদলের লোক নন। কোনোভাবেই এ বিষয়ে অবহেলা করা যাবে না। দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কারণ নায়ায়ণগঞ্জের ঘটনার পরে সারা দেশে আইনের শাসনে বিশ্বাসী মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।”

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, “এসব ঘটনা যারা ঘটাচ্ছে তারা কোনো কাজে আসবে না। তারা আইনের শাসনকে অস্বীকার করে। আইনের শাসনকে অস্বীকার করা নির্বাচিত সরকারকে অস্বীকার করার মতো।”

তিনি বলেন, “আইনের স্বার্থে কোনোধরনের দুর্বলতা নয়, নমনীয়ও হওয়া যাবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘আমরা দেখি নাই’, ‘আমরা জানি না’, এ জাতীয় কথা বললে চলবে না। অপরাধীদের অবশ্যই খুঁজে বের করে জনসম্মুখে আনতে হবে। কারণ বিচারবহিভূত অপহরণ গুম গণতন্ত্রের পরিপন্থী।”

আবদুস সামাদ আজাদ আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “তিনি সব সময় অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির স্বপ্ন দেখেছেন। আজ তিনি নেই কিন্তু তার যে স্বপ্ন ছিল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্ত অবস্থান। কিন্তু আজকে কি আওয়ামী লীগের সেই অবস্থান আছে? আজ মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি হচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখতেন তৃণমূল থেকে দলকে সু-সংগঠিত করা। দল সু-সংগঠিত না থাকলে আমলাতান্ত্রিকতা ও কর্তৃত্ববাদিতা ভর করে।”

এসময় দলকে সু-সংগঠিত করে সংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার পক্ষেও মত দেন তিনি।

বর্তমান অবস্থায় সরকারের আওয়ামী লীগ নাকি আওয়ামী লীগের সরকার সে বিষয়েও প্রশ্ন রাখেন তিনি।

আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম, সাম্যবাদী দলের নেতা হারুন চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান খান প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।