মাহমুদুর রহমানের খোলা চিঠি

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সম্পদের হিসাব দাখিল না করার অভিযোগের মামলায় চার্জ গঠন করেন আদালত।

বুধবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায় চার্জ গঠনের সময় আসামি মাহমুদুর রহমানকে দোষী না নির্দোষী জিজ্ঞাসা করলে তিনি তার জবাবে সরকার ও বিচার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পাঁচ পৃষ্ঠার লিখিত খোলা লিখিত চিঠি দাখিল করেছেন আদালতে।

তিনি তার দাখিলকৃত চিঠি পড়তে শুরু করলে আদালতে দুদকের আইনজীবী স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন কাজল ও অ্যাডভোকেট কবির হোসেন জোরালোভাবে বিরোধিতা করতে থাকেন।

আদালত মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে আগামি ২৮ মে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
উল্লেখ্য যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকের কথিত স্কাইপ কথোপকথন প্রকাশ এবং রাষ্ট্রদ্রোহসহ নানা অভিযোগে গত ১১ এপ্রিল মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। ওই দিনই তাকে তিনটি মামলায় ১৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

খোলা চিঠিতে মাহমুদুর রহমান তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে সরকার, রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থা এবং এই সরকারের দুনীর্তি বিষয়ে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন।

তিনি তার চিঠিতে বর্তমান সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই এলাহি চৌধুরীর দুর্নীতির সংবাদ আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার কারণেই তার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা বশত: এই মামলাটি করা হয়েছে বলে আাদালতকে জানান মাহমুদুর রহমান।

এই মামলায় দুদক জালিয়াতি ও আইন ভঙ্গ করেছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টির জন্য দুদক তার বিরুদ্ধে ৭০টির মতো মামলা করেছে বলেও তিনি তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ না থাকায় দুদক সম্পদের হিসাব দাখিল না করার অভিযোগে এই মামলাটি করা হয়েছে বলেও তিনি তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

এছাড়াও তার চিঠিতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই, মানবাধিকার নেই, এমনকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে কোনো জনপ্রতিনিধিত্বশীল বৈধ সরকারও নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর ভাতিজা ফজলে নূর তাপস রাতারাতি ৪০০ কোটি টাকার মূলধনের ব্যাংকের মালিক হওয়া এবং তার সম্পদ মাত্র ক’বছরে মাত্র কয়েকশ গুণ বেড়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় নিক্সন চৌধুরীর পদ্মা সেতু গিলে খাওয়ার কথা লেখা আছে।

চিঠিতে সরকারের মন্ত্রী, আত্মীয় স্বজনসহ অনেকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দুর্নীতি ও তার ভাষায় লুটপাটের অনেক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।

এছাড়াও মাহমুদুর রহমান আদালতকে শেখ হাসিনার আজ্ঞাবাহী, রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বলা হয়েছে।
পুনরায় তিনি জানান, “১৩ মাস বিনাবিচারে অন্যায়ভাবে জেলে বন্দি থাকলেও আদালতের প্রতি আস্থা না থাকায় আজ পর্যন্ত আমি জামিনের কোন আবেদন করি নাই।”

আদালতের কাছে তিনি চার্জ গঠনের পরিবর্তে মামলা খারিজের এবং ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতিতে সংযুক্ত থাকার অপরাধে সকল সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশের প্রত্যাশা করেছেন।

চিঠির একেবারে শেষ প্যারায় তিনি বলেন, “আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার মুহূর্ত পয়ন্ত শত প্রতিকূলতা মোকাবেলা করেও জালিম শাসকের সামনে দাঁড়িয়ে নির্ভয়ে প্রতিবাদ করব, স্বাধীনতার পক্ষে আওয়াজ তুলব, বাংলাদেশের ষোলো কোটি জনগণেকে তার নিজস্ব সাংস্কৃতিক বিপ্লবের দিকে আহ্বান জানাব- আপনার কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এই আমার অঙ্গীকার।”

মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে হওয়া এই মামলায় গত ২০১০ সালের ১৩ জুন রাজধানীর গুলশান থানায় করা এ মামলায় ওই বছরের ১৫ জুন মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
চার্জশিট হওয়ার পর মাহমুদুর রহমানের পক্ষে হাইকোর্টে মামলাটি বাতিলের জন্য আবেদন করলে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের কার্যক্রম স্থগিত করেন।

দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর হাইকোর্টের আদেশে বিচারিক আদালতের কার্যক্রম স্থগিত থাকার পর গত বছরের ৩০ অক্টোবরে মামলাটির হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।