বিএনপি-জামায়াতকে দোষ দিয়ে পার পাওয়া যাবে না: সুরঞ্জিত

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, “সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে শুধু বিএনপি-জামায়াতকে দোষ দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় কি পার পাওয়া গেছে? কার মুখ বন্ধ করবেন? অন্যের সমালোচনার আগে নিজেকেও প্রশ্ন করতে হবে।”

শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘এট্রোসিটিজ অন মাইনোরিটিজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সুরঞ্জিত বলেন, “স্বাধীনতার ৪২ বছর অতিবাহিত হলেও দেশকে আমরা অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারিনি। আসলে মেকি সেকুলারিজম দিয়ে কখনো সাম্প্রদায়িকতা দূর করা সম্ভব নয়।”

তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ করতে হলে অসাম্প্রদায়িকতার নামে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। বাঙালি সাহিত্য, সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী যাতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠতে না পারে। স্বাধীন, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “সংখ্যালঘুরা নীরবে দেশ ত্যাগ করছে। এ পর্যন্ত সংখ্যালঘু নির্যাতনের যতগুলো ঘটনা ঘটেছে এর একটিরও মামলা ও তদন্ত হয়নি। আমার সরকার বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার সরকার হওয়ার পরেও এমনটি হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন তা আজো বাস্তবায়িত হয়নি।”

বৈঠকে দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্তের সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুহ-উল আলম লেনিন এমপি, এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, অর্থনীতিবীদ রেহমান সোবহান, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, রওনক জাহান, সাংবাদিক অজয় দাস গুপ্ত প্রমুখ ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।