সরকার পরিবর্তন হলে পররাষ্ট্রনীতিতে খুব একটা পরিবর্তন আসবেনা: গওহর রিজভী

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. গওহর রিজভী জানিয়েছেন ভারতে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের  কোনো অবনতি হবে না । তিনি বলেছেন, বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহার সিরিয়াসলি নেয়ার কিছু নেই।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপের এ পর্বে প্যানেল আলোচক হিসেবে আরো  ছিলেন ‍বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, দৈনিক নিউ এজের প্রকাশক শহিদুল্লাহ খান বাদল এবং বাংলাদেশ উইমেন্স লইয়ারস অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী।

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে প্রথম প্রশ্ন ছিল- ভারতের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণায় নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে যেসব কথা বলেছেন, সেই প্রেক্ষাপটে তার নেতৃত্বে বিজেপির জয়লাভকে কীভাবে দেখা যেতে পারে?

জবাবে ড. গওহর রিজভী বলেন, “সরকার পরিবর্তন হলে অনেকে মনে করেন অনেক পরিবর্তন হবে। কিন্তু দেখা যায় আসলে পররাষ্ট্রনীতিতে খুব একটা পরিবর্তন আসে না।”

তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অনেক কিছু করার ইচ্ছা থাকলেও কংগ্রেস সরকার তাদের কোয়ালিশনের জন্য তা করতে পারেনি। কিন্তু বিজেপি এবার এককভবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগড়িষ্ঠতা নিয়ে এসেছে। তাই তাদের কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা হবে।” আওয়ামী লীগের সঙ্গে কংগ্রেসের সম্পর্ক ভালো, আর বিজেপির সঙ্গে খারাপ, এ ধারণা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।

গওহর রিজভী বলেন, “বিজেপি নির্বাচনী ইশতিহারে কী বলেছে না বলেছে, তা এত সিরিয়াসলি নেয়ার কিছু নেই। আমরাও আমাদের ইশতেহারের সময় অনেক কথা বলে থাকি। কিন্তু তাই বলে তাদের পররাষ্ট্রনীতির কোনো পরিবর্তন হবে বলে আমি মনে করি না।”

শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, “অতীতেও ভারতের অনেক দল এ ধরনের কথা বলেছিল, কিন্তু ভারতে আসলে অবৈধ বাংলাদেশী আছে কি না তার কোনো সুনির্দিষ্ট হিসাব কেউ দেখাতে পারেনি। আমি মনে করি, ভারত এ বিষয়গুলোতে তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে।”

শমসের মবিন বলেন, “আমরা আশা করব, ভারতের নতুন সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে আরো দৃঢ় করা যায়, তার সিদ্ধান্ত নেবে।”

শহিদুল্লাহ খান বাদলও মনে করেন, সরকার পরিবর্তন হলেই যে সবকিছুর পরিবর্তন হবে, তা  নয়।

বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন ও বিবিসি বাংলা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেন ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এবং উপস্থাপনা করেন আকবর হোসেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।