ফের র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি মির্জা ফখরুলের

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবারো র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়ে  বলেছেন, “বিএনপি আমলে এই বাহিনী (র‌্যাব) সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে কাজ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তাদেরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। এটা সব মহলে প্রমাণিত।”

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদল আয়োজিত দক্ষিণ যুবদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম মজনুসহ সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলা’র  প্রতিবাদে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ যুবদলের সহ-সভাপতি মাসুদ আহমেদ মিলন।

ফখরুল বলেন, “সবাই বলছেন-এ পর্যন্ত যত গুম-খুন ও অপহরণ হয়েছে তার বেশিরভাগই র‌্যাবের হতে হয়েছে। এই মানবতাবিরোধী অপরাধে র‌্যাব জড়িত। তাই এ বাহিনীর আর প্রয়োজন নেই, তাদের বিলুপ্তি করতে হবে।”

প্রতিবাদ সভায় মির্জা ফখরুল আওয়ামী লীগ সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন, পাশাপাশি আগামী দিনে সরকার পতনের আন্দোলনে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
ভারতের হবু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা জানিয়ে দেয়া চিঠির প্রসঙ্গ তুলে ফখরুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তার চিঠিতে ভারতের হবু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলেছেন- আপনি ভারতের জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন। আমরাও জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করেছি। তাই আমরা উভয়েই জনগণের ম্যান্ডেট প্রাপ্ত। আমরা আগামী দিনে এক সঙ্গে কাজ করবো।”বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, “এই কথা বলে প্রধানমন্ত্রী এখন হাস্যকর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। কারণ একথা সবাই জানে-আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়াই একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসেছে।”

আওয়ামী লীগ স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের চেয়েও খারাপ এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তারা (আওয়ামী লীগ) জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কৌশলে ক্ষমতায় বসে অন্যায় কর্মকাণ্ড করছে। জনগণ এসব কোনো দিন মানেনি, আগামী দিনেও মানবে না।আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাবে।”
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলার আদালত স্থানান্তরের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছে। সরকার তাদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়।”
সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুবদল নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর নেওয়াজ আলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।