জামাত-শিবির যেখানে যায় তারা ধ্বংস হবে না, অন্যদের ধ্বংস করে ফেলবে : গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

জামায়াত-শিবিরকে ‘জামালগুটা’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির  সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, “জামালগুটা খেলে যেমন হজম হয় না, বরং গলায় আটকে সেখানটা ধ্বংস করে ফেলে, তেমনি জামাত-শিবির যেখানে যায় তারা ধ্বংস হবে না, অন্যদের ধ্বংস করে ফেলবে। তাই জামায়াত-শিবির আওয়ামী লীগে যোগ দিলে আমি খুশি হবো। কারণ যোগ দেয়ার পরদিন দেখবেন পত্রপত্রিকায় আওয়ামী লীগ আর নেই, সব জামাত-শিবির হয়ে গেছে।”

 
শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে দেশপ্রেমিক যুবশক্তি আয়োজিত ‘জিয়া পরিবারকে নিয়ে মিথ্যাচার ষড়যন্ত্র এবং বর্তমান বিতর্কিত সরকারের অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে’ প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

‘বিএনপিকে ফরমালিন দিয়ে টিকিয়ে রেখেছি’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “তিনি কিরমিনাল, অপরাধ করেছেন। ফরমালিন ব্যবহার করা হয় খারাপ কাজে। তিনি বিএনপি ধ্বংসের জন্য ষড়যন্ত্র করছেন। কোনো রাজনৈতিক দলকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র জঘন্য অপরাধ।”

 

তিনি বলেন, “শেখ মজিবুর রহমান ছাড়া আওয়ামী লীগের কোনে পুঁজি নেই। তারা সেই পুঁজিও সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছে না। নিজেরা বিতর্কিত করে ফেলছে।” গয়েশ্বর বলেন, “দেশের জনগণ সংলাপ চায়। বিএনপি সংলাপের জন্য অন্ততকাল অপেক্ষা করবে না। আর এই আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করলে জনগণ তা মেনে নেবে না। এই ধাক্কা সামলাতে সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়বে।”

 

হবিগঞ্জ র্যা বের অভিযানের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশের গণতন্ত্র নির্বাসিত আর চলছে ইচ্ছাতন্ত্র। র্যা বের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী সুন্দর অভিনয় করছেন। তিনি রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সঙ্গে যদি কোনো ছবিতে অভিনয় করেন তাহলে অস্কার পুরস্কার লাভ করবেন।”

 

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ গায়ের জোরে স্বঘোষিত সরকার। কারণ যেখানে ৯৫ ভাগ ভোট পড়ে না সেখানে কোনোভাবেই নির্বাচন বলা যায় না। তারা সিলেকশানের সরকার।” বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “শেখ হাসিনা মনে হয় দেশে সামরিকতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য ষড়যন্ত্র করছেন। তাই তিনি আলোচনার কথা এড়িয়ে যাচ্ছেন। সংলাপের কথা এড়িয়ে যাওয়া মানে গণতন্ত্রের সঙ্গে পাশ কাটিয়ে যাওয়া। তিনি সেই দিকেই অগ্রসর হচ্ছেন।”

 

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে দুদু বলেন, “আপনি অবিলম্বে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন দিন। নয়ত সামনে ভয়াবহ পরিস্থিতি আসছে। সেখানে সর্বপ্রথম আপনি ও আপনার দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

 
সমাবেশে দেশপ্রেমিক যুবশক্তির সভাপতি আহসান উল্লাহ শামীমের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন- বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ও যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, এলডিপির মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের রহমাতুল্লাহ প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।