ঈদের পর সরকার পতনে সব ধরনের কর্মসূচি দেয়া হবে: খালেদা জিয়া

দিয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

রবিবার বিকেলে জয়পুরহাটের রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় এ ঘোষণা দেন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘ঈদের পর আমরা আন্দোলনে নামব। কিন্তু যখন আন্দোলনে নামতে চাই, তখন ভয়ে আওয়ামী লীগ আমাদের ঘরের বাইরে যেতে দেয় না। এবার কি ঘরে আটকে রাখতে পারবে? পারবে না।’

 
মশুলধারার বৃষ্টির উপেক্ষা করে জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি, কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর- এই পাঁচ উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা জনসভায় আসেন। জয়পুরহাট ছাড়াও বগুড়া, নওগাঁও, গাইবান্ধা ও দিনাজপুর থেকেও নেতা-কর্মীরা এই জনসভায় যোগ দেন।

 

দুপুর আড়াইটার দিকে কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু হয়। বিকাল পৌনে চারটায় সরাসরি খালেদা জিয়া মঞ্চে এসে পৌঁছালে তুমুল করতালি দিয়ে খালেদা জিয়াকে অভিনন্দন জানান নেতাকর্মীরা।

আবারো র্যা ব বিলুপ্তি দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, “সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। র্যা ব গুম-খুন করছে। অবিলম্বে বিলুপ্ত করতে হবে।” জাতিকে মেধাশূন্য করতে সরকার বেছে বেছে মেধাবী যুবসমাজকে গুম-হত্যা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 
তিনি বলেন, “ফরমালিনের জন্য হাসিনাকে ধরা উচিত। তিনিই তো বিএনপিকে ফরমালিন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার কথা বলেছেন। তিনি ফরমালিন আমদানি করছেন। এখন ব্যবসায়ীদের ধরা হচ্ছে। সঠিকভাবে যাচাই বাছাই করে নোটিশ দিয়ে অভিযান চালানো উচিত।”

‘এক দলের জন্য এক আইন আর অন্য দলের জন্য অন্য আইন চলছে’ এমন মন্তব্য করে তিনি নির্ভয়ে ও নিরপেক্ষভাবে বিচার কাজ করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান।

খালেদা বলেন, “আওয়ামী লীগ হলো সন্ত্রাসীদের গডফাদার। শেখ হাসিনা গডমাদার। তিনি গডফাদারদের আশ্রয় দিয়েছেন। গডফাদারের মা যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন দেশের মঙ্গল হবে না। স্বাধীনতার পর রক্ষীবাহিনী দিয়ে মানুষ মেরেছে। এখন তারা প্রতিনিয়ত মানুষ খুন করছে, গুম করছে। এরা যখনই ক্ষমতায় আসে তখন দেশে মানুষ খুন হয়, দেশে দুর্ভিক্ষ হয়।”

তিনি বলেন, “পাশের হার বাড়িয়ে সরকার দেখাচ্ছে লেখাপড়া হচ্ছে।” সুইস ব্যাংকে জমা হওয়া টাকার বিষয়ে তদন্তও দাবি করেন তিনি।

 

৫ জানুয়ারি নির্বাচনে মানুষ ভোট দেয়নি দাবি করে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা অবৈধ। জনগণ পরিবর্তন চায়। তাই জনগণের মনের কথা বুঝতে হবে। তাই সময় নষ্ট না করে আলোচনার মাধ্যমে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। জনপ্রিয়তা প্রমাণ করুন।”

আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “ঈদের পর থেকে আন্দোলন শুরু হবে। বাধা দেওয়া হলে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।” নির্দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে বলে আবারো ঘোষণা দেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

‘আপনি আসার ১৩ দিন পর জিয়া মারা গেছেন কেন?

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সে প্রশ্ন তুলেছেন খালেদা জিয়া। শেখ হাসিনার উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনি আসার ১৩ দিন পর জিয়া মারা গেছেন কেন? আপনি বোরকা পরে বর্ডার পাড়ি দিচ্ছিলেন কেন? তবে কি আপনার মনে কোনো ভয় ছিল?’ এরআগে দলের নেতারা এ বিষয়ে কথা বললেও প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য রাখলেন খালেদা জিয়া।

 
‘জিয়ার প্রতি আওয়ামী লীগের কৃতজ্ঞ থাকা উচিত’

 

জিয়াউর রহমান দেশে ফিরতে বাধা দিয়েছেন— প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন অভিযোগের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, “জিয়াউর রহমান লোক পাঠিয়ে তাকে (শেখ হাসিনা) দেশে এনেছেন। সব ফিরিয়ে দিয়েছেন।” বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে ‘বাকশাল’ থেকে আবার ‘আওয়ামী লীগ’ নামটি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য জিয়ার প্রতি দলের নেতা-কর্মীদের কৃতজ্ঞ থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

জিয়াউর রহমানকে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা আর আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধাদের সীমান্ত পাড়ি দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে খালেদা জিয়া মন্তব্য করেন।
খালেদা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ভয়ে দেশি-বিদেশি কেউ বিনিয়োগ করতে আসে না। বিদ্যুত্, গ্যাস, নিরাপত্তা দিতে না পারায় এ অবস্থা। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় গেলে সব সুবিধা দিয়ে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

‘সুইস ব্যাংকের বাংলাদেশের অর্থের জমা তদন্ত দাবি’

খালেদা জিয়া বলেন, “সুইস ব্যাংকের বাংলাদেশের টাকা পাচারের খবর বেরিয়েছে। এই সরকারের আমলে যারা দেশে দুর্নীতি করেছে, পদ্মাসেতু, কুইক রেন্টাল পাওয়া প্ল্যান্ট, পূঁজিবাজারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ চুরি করে আত্মসাৎ করে সুইস ব্যাংকে পাঁচার করেছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কারা টাকা পাঁচার করেছে, তা খুঁজে বের করতে হবে।”
 

এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি দমন কমিশনের ‘চোখ বন্ধ করে থাকার’ কঠোর সমালোচনাও করেন তিনি।
 

‘অনির্বাচিতরা শুদ্ধ হলে কেনো নির্দলীয় সরকার শুদ্ধ নয়’

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের বিষয়ে হাইকোর্টের ঘোষিত রায়ের প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘ভোট ছাড়া ১৫৪ জন অনির্বাচিতরা যদি শুদ্ধ হয়ে থাকে, তাহলে কেনো নির্দলীয় সরকারের অনির্বাচিত ১১ জন উপদেষ্টার নিযোগ শুদ্ধ হবে না। ওই ১১ উপদেষ্টা তো সংসদে কোনো আইন পাস করবেন না।’’
 

৫ জানুয়ারি নির্বাচন বর্জনের আন্দোলনে জয়পুরহাটের ১২ জন নেতা-কর্মীর পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের হাতে নিহত হওয়ার তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, ‘‘জয়পুরহাটসহ সারাদেশে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছে। দেশের মানুষ বলে আন্দোল দেন। সরকার আন্দোলনকে ভয় পায়। ভয়ে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয় তারা। এবারের আন্দোলনে তাতে কোনো কাজ হবে না। সবাই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিন।”
 

জেলা সভাপতি মোজাহার আলী প্রধানের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড.আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশীদ, আসাদুল হাবিব দুলু, যুব দলের সিনিয়র সভাপতি আবদুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক সাংসদ সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, জেলার সাধারণ ফজলুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।