বাংলাদেশ ও ভারতের অমীমাংসিত ইস্যুর জন্য দায়ী আওয়ামী লীগ: খালেদা জিয়া

ভারতের সদ্য সাবেক কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থনের কঠোর সমালোচনা করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “নয়া দিল্লি ও ঢাকার মধ্যকার সম্পর্ক কোনো বিশেষ দল ও ব্যক্তির সঙ্গে নয়; বরং দুই দেশের মানুষের স্বার্থের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।”

এসময় দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়গুলোর নিষ্পত্তিতে ব্যর্থতার জন্য ভারত নয়, আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন তিনি। বাংলাদেশের জনগণ আন্তরিকভাবেই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায় বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। গত রোববার ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বেগম জিয়া এসব কথা বলেন। গত পাঁচ বছরে ভারতের কোনো সংবাদপত্রকে দেয়া এটাই প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎকার খালেদা জিয়ার।
ভারতের বিগত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারকে আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। খালেদা বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে নয়, দুই দেশের জনগণের স্বার্থের ভিত্তিতে এই সম্পর্ক হওয়া উচিত। এর জন্য আমি কাউকে দায়ী করছি না, তবে আওয়ামী লীগ এটা করতে তাদের বাধ্য করেছে এবং ভারত সরকার তাদের সমর্থন দিয়েছে।”

দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান হবে আশাবাদ করে বেগম জিয়া বলেন, আমরা আশা করি বিপুল সমর্থনে ক্ষমতায় আসা মোদি সরকার দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান করবেন যা আগের সরকারগুলো করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সুষমা স্বরাজের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গত সপ্তাহের বৈঠন সম্পর্ক বেগম জিয়া বলেন, “অমীমাংসিত বিষয়গুলো- যেমন পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ ও তিস্তা বিষয়ে সুষমার কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। আমরা আশা করি শিগগিরই এই সমস্যার সমাধান হবে।” ভারতের বিগত কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে নতুন বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিতে কোনো তফাৎ রয়েছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে আসার মতো সময় এখনো হয়নি।”
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে খালেদা জিয়া বলেন, “আমরা মধ্যপন্থী। আমরা উগ্র ডানপন্থী নই, উগ্র বামপন্থীও নই। আপনি যদি ইতিহাসের দিকে তাকান তাহলে দেখবেন, আওয়ামী লীগই জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল … ১৯৮৬ সালে এরশাদ যখন নির্বাচন করতে গেল। জামায়াতের সঙ্গে আমাদের নির্বাচনকালীন একটা বন্দোবস্ত। ওরা কিছু জায়গা থেকে নির্বাচন করেছিল, আমরা কিছু জায়গা থেকে। এর বাইরে কিছু না। ওরা ওদের আদর্শ অনুসরণ করে, আমরা আমাদের।”
সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ আমলেই অত্যাচার নির্যাতন বেশি হয়। তিনি বলেন, বাবরি মসজিদ যখন ভাঙা হয় তখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দেশে যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, তখন তাদের কঠোর হাতে দমন করেছেন। যেসব চ্যানেলে বাবরি মসজিদ ভাঙার ছবি দেখাচ্ছিল, সেসব চ্যানেলের প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল বলেও তিনি জানান।
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারের সময় নরেন্দ্র মোদি যেসব মন্তব্য করেছেন, সেটি তাকে উদ্বিগ্ন করেছে কি না, জানতে চাইলে খালেদা জিয়া বলেন, নির্বাচনে জেতার জন্য অনেক কিছুই বলা হয়। তার অর্থ এই নয় যে এগুলো বাস্তবায়ন হবে।

খালেদা জিয়া বলেছেন, সুষমা স্বরাজের সঙ্গে তার বৈঠকটি ছিল খুবই সৌহার্দ্যপূর্ণ। বৈঠকে সুষমা সীমান্তে হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া তিস্তা চুক্তি ও সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন খালেদা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদী তাঁকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু দেশের পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়ায় এখনই তিনি যাচ্ছেন না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।