মন্ত্রিসভা থেকে লতিফ সিদ্দিকীকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত

ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ সম্পর্কে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করায় বিতর্কিত মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লন্ডনে সফররত প্রধানমন্ত্রী এ সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে। তিনি দেশে ফিরলেই ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে তার অব্যাহতি কার্যকর হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীও মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে লতিফ সিদ্দিকীর কড়া সমালোচনা করেন। নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি হোটেলে রোববার বিকেলে নিউ ইয়র্কে বসবাসরত টাঙ্গাইলবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী নবী ও হজকে নিয়ে কটূক্তিসহ বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন, “আব্দুল্লাহর পুত্র মোহাম্মদ চিন্তা করল এ জাজিরাতুল আরবের লোকেরা কীভাবে চলবে? তারাতো ছিল ডাকাত। তখন সে একটা ব্যবস্থা করলো যে আমার অনুসারীরা প্রতিবছর একবার একসঙ্গে মিলিত হবে। এরমধ্য দিয়ে একটা আয়-ইনকামের ব্যবস্থা হবে।”
মতবিনিময়কালে মন্ত্রী আরো বলেন, “আমি হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী, জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী, তবে তার চেয়েও বেশি হজ ও তাবলিগ জামাতের।” হজ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত এই নেতা বলেন, “হজের জন্য ২০ লাখ লোক সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রোডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে। গড়ে যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায় প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়।”
এসময় তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “তাবলিগ জামায়াত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।” মন্ত্রীর এই বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্যে ফুঁসে ওঠেছেন দেশ বিদেশের মুসলমানরা। হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামি দলগুলো মন্ত্রীর পদত্যাগ ও বিচার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।