২০ দল এখন দেশের জন্য বিষফোঁড়া: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের নেতাদের কেউ খুনি কেউ যুদ্ধাপরাধী । তিনি  বলেছেন, ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে যারা আছে তারা দেশের জন্য বিষফোঁড়া।

শনিবার বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের সমাবেশে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। বিকাল চারটা ৪০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শুরু করেন।

বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারো কোনো হুমকি-ধমকিতে দেশের অগ্রগতি থামবে না। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা হবে।
 

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই
একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বিচার চলছে, বিচার চলবে। কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একে একে বাংলার মাটিতে হবেই।”

শেখ হাসিনা বলেন, “খালেদা জিয়া পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর দোসরদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল। আমরা ওয়াদা দিয়েছিলাম তাদের বিচার করব, বিচার করছি। আর বিএনপি আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, গাছ কেটেছে, গাড়ি পুড়িয়েছে।”
 

২০ দলের কেউ খুনি কেউ যুদ্ধাপরাধী
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতাকে হত্যার পর এবং পঁচাত্তরের পর জিয়াউর রহমান খুনিদের রাজনীতিতে আশ্রয় দেন। এখন ২০ দলে যারা আছেন, তাদের কেউ খুনি কেউ যুদ্ধাপরাধী। সূর্যসেন হলের ছাত্রলীগের নেতাদের হত্যার আসামিরা এখন ২০ দলের নেতা।” ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে যারা আছে তাদের বিষফোঁড়ার সঙ্গে তুলনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, “দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন আবার ক্ষমতায় আসে, তখন দেশের মানুষ প্রথম উপলব্ধি করে সরকার মানেই জনগণের সেবক।”
 

জিয়া এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি
আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, “জিয়াউর রহমান এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে নাই। বিএনপির নীতি-আদর্শই ছিল ভিন্ন। ১৫ আগস্টের পরে তারা স্বাধীনতাবিরোধীদের পুনর্বাসিত করে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীদের নিয়ে ক্ষমতায় আসে তারা।”

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান শুধু খুনিদের আশ্রয় ও তাদের বিভিন্ন দেশে পুনর্বাসন করেননি; এখন তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও স্বামীর পথ অনুসরণ করছেন। সারা দেশে তার সমাবেশে সাজাপ্রাপ্ত রাজাকারদের মুক্তির দাবি করা হয়। এ থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের নাকি রাজাকারদের পক্ষে।”
 

ঘরে ঘরে আলো জ্বালাব
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগামী দিনে ঘরে আলো জ্বালাব, কোনো ঘর বিদ্যুৎবিহীন থাকবে না। এর আগে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছি। আরো বাড়ানো হবে।”

তিনি বলেন, “যুবকর্মসংস্থানের জন্য জামানতবিহীন ঋণের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি। সেখান থেকে যেকোনো যুবক দুই লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করতে পারবে। এখন আর যুবকদের জমি বিক্রি করে বিদেশ যেতে হবে না। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে বিদেশ যাবে। ফিরে এসে সেটা পরিশোধ করবে।”

আউটসোর্সিংকে ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তথ্যপ্রযু্ক্তিতে ডিজিটাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সেখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন যে কেউ আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে উপর্জন করবে।”

এর আগে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সমাবেশের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এরপর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা।

সংগঠনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ সমাবেশের আয়োজন করে যুবলীগ। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুবলীগের চেয়ারম্যান ওফর ফারুক চৌধুরী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।