গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে, তাই আন্দোলন নয়, সরকারকে হটাতে সংগ্রামের প্রস্তুতি নিন: ফখরুল

“আওয়ামী লীগ অর্থনীতিসহ গোটা দেশকে ধ্বংস করেছে। গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করেছে।” তাই আন্দোলন নয়, সরকারকে হটাতে সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর । মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ২০ নভেম্বর তারেক রহমানের ৫০তম জন্মদিন সামনে রেখে আলোচনা সভাটি আয়োজিত হয়।
মাথা নত না করা ও জনগণের রাজনীতি ধারণ করায় বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, এমন দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হচ্ছে। মির্জা ফখরুল সরকারকে সতর্ক করে দেন, নেতাকর্মীদের নামে মামলা আর তাদের গ্রেফতার ও কারাগারে নিক্ষেপ করে আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। অতীতেও কেউ পারেনি, এই সরকারও পারবে না।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে উদ্দেশ করে ফখরুল বলেন, “লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, জয় প্রতি মাস এক কোটি ৬০ লাখ টাকা বেতন নিতেন। এখন সত্য কথা বলার জন্য তার চাকরি গেল, নাকি অন্য কারণে, আমরা বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে আমরা এখনো পর্যন্ত সরকারের কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাইনি।”  আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, “ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। এইচ টি ইমাম সরকারের কারিকুরি ফাঁস করে দিয়েছেন। তার নির্দেশেই নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ফল পাল্টে দিয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি (এইচ টি ইমাম) অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু জনগণ তা বিশ্বাস করেনি।”
‘জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু না বললে কেউ বাংলাদেশে থাকতে পারবে না’- একজন মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে ফখরুল বলেন, “এই ধরনের ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারী কথা আগেও আমরা শুনেছি। আমরা দেখেছি সিরাজ সিকদারকে গুলি করে হত্যা করে বলা হয়েছিল ‘কোথায় সিরাজ শিকদার’। এরপর কী হলো- কোথায় আওয়ামী লীগ, কোথায় তাদের নেতা।”
সংগঠনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক ড. মাহফুজ উল্লাহ, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, শওকত মাহমুদ, অ্যাডভোকেট আহমদ আজম খান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।