টার্গেট জানুয়ারি, ‘ডু অর ডাই’ আন্দোলনের প্রস্তুতি ২০ দল

কৌশলগত কারণে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু করবে ১৬ ডিসেম্বরের পর থেকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। তবে এবার তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি এই দুই মাসের মধ্যে আন্দোলনকে একটি যৌক্তিক পরিণতি দিতে চাইছে তারা।  লম্বা আন্দোলনে অর্থ ও লোকবল দুটোরই ক্ষয় ক্ষতি বেশি হয় ২০ দলীয় জোটের।

 

এ বিষয়ে বিএনপির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আগামী সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে গতিশীল, সংক্ষিপ্ত ও কার্যকর। আর এর চরিত্র হবে ‘ডু অর ডাই’ ধরনের। জানুয়ারির মধ্যেই এসপার-ওসপার করতে মরিয়া বিএনপি।

 

দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামী সরকারবিরোধী আন্দোলন হবে সর্বাত্মক। তিনি বলেন, এবার কার্যকর ও গতিশীল কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সরকারকে দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে তা সর্বাত্মক রূপ নেবে। এবার আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।

 

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এখন আন্দোলন ছাড়া বিএনপির সামনে বিকল্প আর কোনো পথ খোলা নেই। সরকারকে এক বছর সময় দেওয়া হয়েছে। অথচ তাদের বোধোদয় হয়নি। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় তারা বারবার বলেছে, এটা নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। অথচ এখন ইচ্ছাকৃতভাবে সব ভুলে বসে আছে। এভাবে রাজনীতি হয় না। সুতরাং সরকারকে একটি সিদ্ধান্তে আসতেই হবে।

 

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মহানগর বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, এবারের আন্দোলন হবে শর্ট, কুইক ও ডিসাইসিভ। এসপার-ওসপার জানুয়ারির মধ্যেই হবে।

 

তিনি বলেন, গত বছর সারা দেশে যে আন্দোলন হয়েছে, এমনটা স্বাধীনতার পরে আর দেখা যায়নি। অথচ সরকার বলছে, দেশ নাকি উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে। গত অর্থবছরে উন্নয়নের সব সূচক নাকি এ প্রমাণই দেয়। সুতরাং আন্দোলন করলে সমস্যা কী!

 

১৬ ডিসেম্বরের পরে আন্দোলন শুরুর কারণ জানতে চাইলে বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, মহান বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে সরকার অনেকটা হাইজ্যাক করে নিয়ে গেছে। নানা কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে ওই সময় তারা দেশে এমন একটা আবহ তৈরি করে যেন আওয়ামী লীগই দেশের একমাত্র স্বাধীনতার পক্ষের দল। পক্ষান্তরে বিএনপিসহ অনেক দলকে তারা স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করতে নানা তৎপরতা চালায়।

 

বিএনপি নেতাদের ধারণা, আগে থেকে আন্দোলন শুরু করলে এর গতি স্তিমিত করার কৌশল হিসেবে সরকার ১৬ ডিসেম্বর দিনটিকে বেছে নেবে। তাঁদের মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত যেকোনো একজনের ফাঁসি সরকার ওই দিনের আগে-পরে কার্যকর করতে পারে। জোট নেতাদের কেউ কেউ এমনও মনে করেন, রাজনৈতিক কারণেই ফাঁসিগুলো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত করতে তা সময়মতো কাজে লাগানো হবে।

 

জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর হয় গত বছর ১২ ডিসেম্বর রাতে। বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয় ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর রাতে। জনমত অনুকূলে রাখার রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই সরকার ডিসেম্বর মাসকে বেছে নেয় বলে ২০ দলীয় জোট মনে করে। কৌশলগত দিক থেকে স্বাধীনতার মাস মার্চও আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য কিছুটা সুবিধাজনক মনে করা হয়।

 

জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের রায় হয় ১ মার্চের আগের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি নয় বিএনপি। নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগাম নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের সফলতা তারা এর আগেই নিশ্চিত করতে চায়।

 

সূত্র মতে, ১৬ ডিসেম্বরের আগে অথবা পরে ঢাকায় একটি জনসভা থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আন্দোলনের ডাক দেবেন। ওই সভা থেকেই সরকারের উদ্দেশে আগাম নির্বাচনের জন্য সমঝোতা, আর এ জন্য সংলাপ শুরুর আলটিমেটামসহ বিভিন্ন দাবিনামা তুলে ধরা হবে।

 

তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্চ পর্যন্ত যদি আন্দোলন টেনে নিতেও হয় সে ক্ষেত্রেও আগাম যুক্তি খাড়া করে রাখছে বিএনপি। ফেব্রুয়ারি ও মার্চে এসএসসি পরীক্ষার সময়সূচি রয়েছে। তবে এবার এ পরীক্ষা ও জনদুর্ভোগের বিষয়টিও দলটি বিবেচনায় নিচ্ছে না।

 

আলোচনাকালে দলটির নেতারা জানিয়েছেন, এ ইস্যুতে এরই মধ্যে দলের অবস্থান ও বক্তব্য ঠিক করে রাখা হয়েছে। গত বছর অনেকটা সময় আন্দোলনে টালমাটাল থাকা সত্ত্বেও উন্নয়নের প্রতিটি সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল বলে সরকার দাবি করছে। বলছে, উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে সরকার সফল।

 

তা ছাড়া তুমুল আন্দোলন সত্ত্বেও এসএসসি, এইচএসসিসহ বেশির ভাগ পরীক্ষার ফলাফল আগের বছরের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। ফলে ‘বিরোধী দলের আন্দোলন দেশের জন্য কোনো সমস্যা নয়’- এমন যুক্তিই খাড়া করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন।

 

সূত্র: কালের কণ্ঠ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।