আত্মসমর্পণের পর সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী কারাগারে

আত্মসমর্পণের পর সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে চীফ মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি শেষে মহানগর হাকিম আতিকুর রহমান তাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

 

এর আগে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেওয়া হয়। তাকে মহানগর হাকিম আতিকুর রহমানের আদালতের এজলাসকক্ষের আসামির কাঠগড়ায় তোলা হয়। তার পক্ষে কোনো জামিনের আবেদন জানানো হয়নি।

 

লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার একটি মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। একই বাদীর মামলাটিতে এর আগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। সোমবার একই হাকিম ওই গ্রেফতারি পরোয়ানা অনুসারে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের তাগাদা দেন।

 

 

এর আগে মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

 

 

ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আজ দুপুর একটা ৩৫ মিনিটে একটি গাড়িতে চড়ে থানায় আসেন লতিফ সিদ্দিকী। তিনি গাড়ি থেকে নামেননি। তাকে তাত্ক্ষণিকভাবে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

 

আগাম জামিন চাইতে সোমবার লতিফ সিদ্দিকী হাইকোর্টে যাচ্ছেন বলে খবর চাউর হলেও শেষ পর্যন্ত তার সত্যতা মেলেনি। এ নিয়ে সারা দিন গুঞ্জন চলে।

 

 

পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার না করায় রাজপথ থেকে সংসদ সব স্থানেই চলে ক্ষোভ-বিক্ষোভ।

 

 

এর আগে সোমবার সংসদ অধিবেশন চলাকালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ডেকে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

 

রাতে যোগাযোগ করা হলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কখন তাকে গ্রেপ্তার করা হবে, সে ব্যাপারে কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

 

 

রবিবার রাতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নাটকীয়ভাবে কলকাতা থেকে বিমানে ঢাকা ফেরার সংবাদ প্রচার হলে তাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে।

 

 

সম্প্রতি বিদেশের মাটিতে পবিত্র হজ, মহানবী (সা.) ও প্রধানমন্ত্রীপুত্র জয়কে নিয়ে কটূক্তি করায় মন্ত্রিত্ব হারান আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকী। দল থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে।

 

 

ধর্মদ্রোহিতার অপরাধে তাকে গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে হেফাজতসহ বেশ কয়েকটি ইসলামপন্থি দল বৃহস্পতিবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয়।

 

 

বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলও অভিযোগ করেছে, সরকারের সম্মতি নিয়েই লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফিরেছেন।

 

 

এদিকে, সোমবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে লতিফকে গ্রেপ্তারে স্পিকারের অনুমতি লাগবে না বলে জানান তিনি।

 

 

লতিফ সিদ্দিকী দেশে ফেরার পর থেকে কোথায় আছেন, জামিন নিতে আদালতে গিয়েছিলেন কি না তা নিয়ে সোমবার দিনভর গুঞ্জন চলে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।