নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জানুয়ারিতে ঢাকা অচলের টার্গেট বিএনপির

আবারো বিএনপি সরব হচ্ছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবিতে। এ দাবি আদায়ে দলটি চূড়ান্ত আন্দোলনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে রাজপথে নামবে বিএনপি। এবার দলটির টার্গেট ‘ঢাকা অচল’ কর্মসূচি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন সে লক্ষ্য নিয়েই দল ও জোটে কাজ চলছে।

 

জানা গেছে, বিএনপি তাদের জোটের শরিক দলগুলোকে নিয়ে জানুয়ারিতে সরকার পতনের চূড়ান্ত আন্দোলনে নামছে। এর অংশ পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে চলতি ডিসেম্বরকে ‘ওয়ার্ম আপ’ মাস বেছে নিয়েছে দলটি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও বলেছেন, তারা এ মাসেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিবে। বিজয়ের মাসের প্রস্তুতির পর জানুয়ারিতে সরকার অপসারণের আন্দোলন হবে।

 

এই লক্ষ্যপূরণ করতে ঢাকা মহানগর বিএনপিকে বিশেষভাবে প্রস্তুতি নিতে বলেছেন খালেদা জিয়া। এছাড়া মাসজুড়ে চলবে নানান ওয়ার্ম-আপ কর্মসূচি। যার মধ্যে আছে—নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের নিয়ে কনভেনশন, সদস্য সংগ্রহ, বেগম জিয়ার গণসংযোগ, আলোচনা সভা, মতবিনিময় প্রভৃতি।

 

দলের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সাংগঠনিক অবস্থা দ্রুত আন্দোলন উপযোগী করার জন্য কয়েকজন নেতাকে মনিটরিং করতে বলেছেন খালেদা জিয়া। আন্দোলনে মূল টার্গেট থাকবে ঢাকা অচল করে দেয়া। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে ঢাকা নিষ্ক্রিয় থাকায় সফলতা আসেনি বলে মনে করেন দলের হাই-কমান্ড। এ কারণে এবার বড় মাত্রায় নজর দেয়া হচ্ছে ঢাকার দিকে।

 

এছাড়া একই লক্ষ্যে বেশ আগে থেকেই বিএনপি চেয়াপারসন বিভিন্ন জেলা সফর করছেন। সফরে জনসভায় ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন তিনি। তা থেকেই খালেদা জিয়া তৃণমূল নিয়ে নির্ভার রয়েছেন। এখন তিনি ঢাকাকে প্রস্তুত করছেন।

 

জানুয়ারির সম্ভাব্য আন্দোলন নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেছেন, ‘আমরা এবার আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামব। জানুয়ারি থেকে শুরু হবে সরকার পতনের আন্দোলন।’ তিনি মনে করেন, ‘এই আন্দোলন হবে বিএনপির শেষ চেষ্টা। বিফল হলে দলের অস্তিত্ব নিয়ে টানাপোড়েন দেখা দিবে। তাই সবাইকে সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

 

নব্বইয়ের দশকের ডাকসু নেতাদের নেতৃত্বে ১৮ ডিসেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। কনভেনশনে তত্কালীন স্বৈরশাসক এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের তুখোড় নেতাদের ভূমিকা ও অভিজ্ঞতা বর্তমান ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বিনিময় হবে।

 

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান জানিয়েছেন, এই কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন খালেদা জিয়া। এদিকে, দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে বিএনপি সারাদেশ থেকে দলের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে। ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম চলবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

 

জানা গেছে, দলের সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম প্রতি তিন বছর পর পর হওয়ার কথা থাকলে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। তবে এবার সারাদেশের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে কমপক্ষে এক হাজার সদস্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিএনপি। সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পাদন করতে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে কেন্দ্র থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এছাড়া নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবিতে দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৩ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ যাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওইদিন কাঁচপুর বালুর মাঠে স্থানীয় ২০-দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।