রাজনীতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে

দেশের রাজনীতি আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে৷ বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ পাল্টা-পাল্টি সমাবেশ ডাকছে একই দিনে, একই স্থানে৷ আর তা নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় জারি করা হচ্ছে ১৪৪ ধারা৷ ৫ জানুয়ারি ‘শো-ডাউন’ হবে দুই দলেরই৷

শনিবার গাজীপুরে বিএনপির সমাবেশ নিয়ে এখন চলছে চরম উত্তেজনা৷ ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ মাঠের সমাবেশে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিত থাকার কথা৷ তবে একই সময় সেখানে সমাবেশ ডেকেছে শাসক দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ৷

 

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার দুপুর দুটো থেকেই গাজীপুর জেলায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে৷ গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানান, ‘‘দুই পক্ষকে সমঝোতা করতে বলেছিলাম৷ তারা সমঝোতায় আসতে না পারায় শনিবার দুপুর দুটো থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে৷”

 
‘‘যে কোনো মূল্যে শনিবার গাজীপুরে সমাবেশ করা হবে” – বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দিনের শুরুতে এ কথা বললেও, পরে ১৪৪ ধারা ঘোষণার সিদ্ধান্তকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে অভিযোগ করেন৷

 

তিনি বলেন, ‘‘শনিবার বেলা ২টায় গাজীপুরে ২০ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাষণ দেওয়া কথা৷ এই জনসভা বানচাল করতেই সরকার পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৪৪ ধারা জারি করেছে৷” আজ গাজীপুরে সমাবেশ করছে না বিএনপি। শনিবার গাজীপুরে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে বিএনপি।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার চলছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল৷ জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে বগুড়া এবং শেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি- জামায়াতের কয়েকশ’ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷

 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার করা হয় শুক্রবার সকালে তার ঢাকার বাসা থেকে৷ তার বিরুদ্ধে ঢাকা মেডিকেলের সামনে সাংসদ ছবি বিশ্বাসের গাড়িতে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে৷

এছাড়া খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে বকশীবাজারে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের দেড় শতাধিক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে৷

বিএনপি চাইছে ৫ জানুয়ারির আগেই মাঠে নামতে৷ তারা চাইছে, ৫ জানুয়ারি মাঠ দখলে রাখতে৷ কর্মসূচি চূড়ান্ত না হলেও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে বলে জানা গেছে৷ বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘‘ক্ষমতাসীনদের আচরণের ওপর নির্ভর করে আন্দোলনের ছক অনুসারে শিগগিরই মাঠে নামবে বিএনপি৷

 

এ মাসে কিংবা জানুয়ারি মাসের যেকোনো সময় একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবিতে সরকার পতনের জন্য রাজপথে চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, যার নেতৃত্বে থাকবেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া৷”

আন্দোলন সফল করতে বিএনপি তৃনমূল এবং ছাত্রদলকে চাঙ্গা করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে এর মধ্যে৷ ছাত্রদলের একজন নেতা জানান, ‘‘গত সপ্তাহে খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরার দিন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা মাঠে থেকে এর প্রমাণ দিয়েছেন৷

 

ছাত্রলীগ পুলিশের সহায়তায় হামলা করলেও, তারা পেরে ওঠেনি ছাত্রদলের সঙ্গে৷” তার দাবি, পুলিশি সহায়তা না পেলে ছাত্রলীগ একদিনও মাঠে টিকতে পারবে না৷

ঢাকার কলাবাগান এলাকার ছাত্রদল নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, ‘‘গত কয়েক সপ্তাহে পরিস্থতি বদলেছে৷ তুণমূলের কমিটি হওয়ায় এখন সাবাই আন্দোলনে মাঠে নামতে প্রস্তুত৷ মাঠে নামছেও৷ ৫ জানুয়ারির জন্য প্রস্তুত আছি আমরা৷”

ওদিকে শাসক দল আওয়ামী লীগও বসে নেই৷ তারা রাজপথে বিএনপিকে প্রতিহত করার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছে৷ মিরপুর এলাকার ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে৷

 

ঢাকায় ৫ই জানুয়ারির মহাসমাবেশ সফল করতে ব্যাপক গণসংযোগ চালানো হচ্ছে৷” তিনি বলেন, ‘‘আমরা বিএনপির প্রস্তুতিও নজরে রাখছি৷ অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেব৷”

ছাত্রলীগ এরইমধ্যে খালেদা জিয়াকে প্রহিতের ঘোষণা দিয়েছে৷ তারা দাবি করেছে, তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লন্ডনে যে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন, তা প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেয়া হবে না৷ তারই অংশ হিসেবে ছাত্রলীগ গাজীপুরে বিএনপির সমাবেশ স্থলে পাল্টা সমাবেশ ডাকে৷

ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল আলম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এরই মধ্যে বিএনপি নেতাদের ‘নেড়ি কুত্তার মতো পেটানোর’ হুমকি দিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের খবর৷ আওয়ামী লীগ নেতা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘‘বিএনপিকে মাঠেই নামতে দেয়া হবে না৷”

তিনি বলেন, ‘‘আগামী ৫ জানুয়ারি দেশের কোথাও বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের রাজপথে নামতে দেয়া হবে না৷ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রাজপথ দখলে রেখে খুনি বাহিনীকে প্রতিহত করবে৷”

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘‘৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে দেশে গণতন্ত্র থাকত না, এ দেশে ‘মার্শাল ল’ কায়েম হতো৷ গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতেই শেখ হাসিনা জীবন বাজি রেখে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করেছিলেন৷ ২০১৯ সালের জানুয়ারির এক দিন আগে এ দেশে কোনো নির্বাচন হবে না৷”

চলতি বছরের ৫ জানুযারি একরফা নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ৷ বিএনপি নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহতের চেষ্টা করে৷

 

গত এক বছর ধরে তারা নির্দলীয়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচনের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়৷ এবার ৫ জানুয়ারিকে টার্গেট করে আন্দোলন গড়ে তোলার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে বিএনপি৷

 

অন্যদিকে সরকার তথা আওয়ামী লীগও বিএনপি জোটের আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য প্রস্তুত৷ এখন চূড়ান্ত অবস্থা দেখার জন্য তাই কমপক্ষে ৫ই জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে৷

 

সূত্রঃ ডিডব্লিউ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।