ঢাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা, বাসা কিংবা নয়াপল্টন কোথাও যেতে পারছেন না খালেদা জিয়া

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বেড়েছে পুলিশ। ভেতরে স্বয়ং খালেদা জিয়া। বাসা কিংবা নয়াপল্টন কোথাও যেতে চেয়ে তিনি পারেননি। শেষমেষ খালেদা জিয়া সেখানেই রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রতিবেদন পর্যন্ত (রবিবার, বেলা পৌনে ১২টা) পুলিশি বেষ্টনীর মধ্যে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

 

নয়াপল্টনে গভীর রাতে হয়েছে পুলিশি অভিযান। ‘অসুস্থ’ বলে বিএনিপর যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে তুলে নিয়ে পুলিশ নিজ দায়িত্বে অ্যাপোলে হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছেন। বাকিদের বের করে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। আর রবিবার সকাল থেকে রাজধানী ঢাকামুখী দূরপাল্লার সব বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

 

সবমিলে ৫ জানুয়ারি সোমবার বিএনপির পূর্বঘোষিত সমাবেশ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানী ঢাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। দেখা দিয়েছে সংঘাতে আশঙ্কা।

 

ঢাকা মহানগর পুলিশ এখনো পর্যন্ত এই সমাবেশের কোনো অনুমতি দেয়নি। বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের দপ্তরে গিয়ে কর্মকর্তাদের দেখা পাননি। জনসভার অনুমতি চেয়ে তারা যে আবেদন করেছিলেন, সেটির কোনো জবাব এখনো মেলেনি।

 

গত বছরের ৫ জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হয়। বিএনপি এই দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেয়।

 

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ এবং তাদের মিত্রদলগুলো এই দিনটিতে ঢাকার বিভিন্ন অংশে অনেকগুলো জনসভা করার পরিকল্পনা করছে। শনিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজপথে বিশাল শোডাউন করেছে ছাত্রলীগ। দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে যে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি হয়েছে তাতে অনেকে হানাহানির আশঙ্কা করছেন।

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার অনুমতি না দিলেও ৫ জানুয়ারি ঢাকায় তারা কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করবেন।’

 

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘বিএনপি রাস্তায় নামলে সংঘাত হতে পারে। কারণ তারা কাউকে জনগণের ভাগ্য নিয়ে নৈরাজ্য করতে দিবে না।’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।