বাংলাদেশের চলমান আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে

বাংলাদেশে সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দেশে-বিদেশে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। আমেরিকা-বৃটেনসহ আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের পাশাপাশি খালেদা জিয়াকে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ’র টেলিফোনে চাপের মুখে সরকার।

 
ভারতের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। তাতে আওয়ামী লীগকে নমনীয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পত্রিকাটি, যা বিশেষ ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে পত্রিকাটি বলছে, গণতন্ত্রের স্বার্থেই নমনীয় হওয়া দরকার। আর শাসক পক্ষের দিক হইতেই নমনীয়তা অধিক জরুরি। তা না হলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা আছে। যার পরিণাম কেবল দেশের উদীয়মান অর্থনীতির জন্যই নয়, দেশের শাসক দলের জন্যই শেষ বিচারে বিপজ্জনক।

 

নিউ ইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড এডামস শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছেন,বাংলাদেশ সরকারের শক্তির অপপ্রয়োগ, বিরোধী দল দমনে গ্রেফতার, গণমাধ্যমের ওপর অবৈধ নিয়ন্ত্রণারোপ ও সেন্সরশিপ, জনগণের মতকে দমনের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

 

অনাকাঙ্ক্ষিত এসব ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে, বিশ্বসমাজের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সরকার কান দেবে- এমনটা মনে করেন না আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শাহীদুজ্জামান।

 

তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। সরকার দেশে বেশ কিছু বড় বড় অর্থনৈতিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাদের পাশে আছেন বলে তারা মনে করছে। এ অবস্থায় আমেরিকা-বৃটেনের উদ্বেগ খুব একটা কাজে দেবে না। বিপরীতে আরো শক্ত ভূমিকাতে সরকারকে দেখা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

 

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস্ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকা বা বৃটেনের চেয়ে আমরা দেশের মানুষ বেশি উদ্বিগ্ন। সেইসঙ্গে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছি।

 

রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে দেশের অর্থনীতি যখন হুমকির মুখে পড়ে, তখন আর্থ সামাজিকভাবেও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়। এজন্য সরকার ও বিরোধীদল উভয় পক্ষকেই ভূমিকা নিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকাই বেশি বলে মনে করেন এ মানবাধিকার কর্মী।

 

তার মতে, দেশে যে সহিংসতা ঘটছে তার জন্য শুধু বিরোধীরাই নয়, সরকারও দায়ী। সরকার রাষ্ট্রপরিচালনায় নিয়োজিত থাকায় তাদের দায় বেশি। এজন্য সহনশীলতা, সহমর্মিতা ও ধৈর্যশীলতা দেখানো উচিত।

 

এদিকে, প্যারিসভিত্তিক অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা ‘ফিচ রেটিং’ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থায় শুক্রবার সকালে (ঢাকার স্থানীয় সময়) উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দিয়েছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কঠোর নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিডিয়ার প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেয়ায় সরকারের প্রতিও নিন্দা জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনেটর ইডি রয়েসসহ ছয় সিনেট সদস্য ওই বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন। বাকিরা হলেন-সিনেটর ইলিয়ট এল এঙ্গেল, স্টিভ সেভট, জসেফ ক্রাউলি, জর্জ হল্ডিং ও গ্রস মেঙ।

 

সূত্র: আইআরআইবি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।