গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আজও আদালতে যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া

আইনজীবী সানাউল্লা মিয়া জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত এবং গুলশানে অবরুদ্ধ থাকায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আদালতে যেতে পারছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বকশিবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে গঠিত বিশেষ জজ আদালত-৩-এ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের শুনানি করার আগে সাংবাদিকদের একথা বলেন।

 

এই আদালতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টে দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজ দিন নির্ধারিত রয়েছে। পরে শুনানিতে অংশ নিয়ে সানাউল্লা মিয়া এই মামলায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি এবং সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি চেয়ে আবেদন করেন। এখন বিশেষ জজ আদালত-৩- এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদারের আদালতে সেই আবেদনের ওপর শুনানি চলছে।

 

উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। এজাহারে বলা হয়, ২০০৫ সালে কাকরাইলে সুরাইয়া খানম নামে এক মহিলার কাছ থেকে ‘শহীদ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট’র নামে ৪২ কাঠা জমি কেনা হয়। তবে জমির দামের চেয়ে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা জমির মালিককে দেয়া হয়েছে, যা কাগজপত্রে উল্লেখ করা হয়। এই টাকার বৈধ কোন উৎস ট্রাস্ট দেখাতে পারেনি।

 

২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ।

 

এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ খান।

 

অন্যদিকে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১০ সালের ৫ আগস্ট বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। অভিযোগপত্র দেয়ার পর ২৬টি ধার্য তারিখ পার হলেও আইনি মারপ্যাঁচে খালেদা জিয়াসহ অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।

 

সবশেষ এ মামলায় খালেদা জিয়া গত বছরের ১১ অক্টোবর আদালতে হাজিরা দেন। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশন রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে এ মামলাটি দায়ের করে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৩৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।