সংলাপ না হলে দেশে সংঘাত বাড়বে: বি চৌধুরী

দেশের চলমান সংকট উত্তরণে সরকারকে আবারো দ্রুত সংলাপে বসার তাগিদ দিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। সংলাপ না বসলে দেশের অবস্থা আরো খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানকে দেখে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এই তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ‘‘দেশের চলমান সংকট ক্রমাগত প্রকট থেকে প্রকটতর হচ্ছে। এটা রাজনীতির জন্য অশনি সংকেত। এই অবস্থার অবসান করতে হলে আমি বলতে চাই পথ একটাই। আবারো বলছি, একটাই পথ আছে- সরকারকে আলাপ-আলোচনায় বসতেই হবে, বিরোধী দলের সঙ্গে তাদের কথা বলতেই হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমি এডভান্স বলতে চাই না, নিজেরা আলোচনায় না বসলে বিদেশীদের হস্তক্ষেপে আপনাদের বিরোধী দলের সঙ্গে কথা বলতে হতে পারে। এটা হবে লজ্জাজনক।’’ দুপুর ২টার দিকে অধ্যাপক বি চৌধুরী ইউনাইটেড হাসপাতালের কেবিনে চিকিৎসাধীন রিয়াজ রহমানকে দেখতে যান। তিনি তার সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার সর্বশেষ অবস্থা জানেন। এ সময়ে রিয়াজ রহমানের মেয়ে আমেনা রহমান পাশে ছিলেন।

গত মঙ্গলবার রাতে গুলশান দুই নম্বরের কাছে সন্ত্রাসীদের হামলায়  রিয়াজ রহমান গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এই হাসপাতালে ভর্তি হন। বুধবার তার ক্ষত স্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়।

বর্তমান অচলাবস্থার জন্য সরকারকে অভিযুক্ত করে বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর সভাপতি অধ্যাপক বি চৌধুরী বলেন, ‘‘ যে পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে, তা এখন সরকারকেই ফেইস করতে হবে। একটা সমাবেশ করতে দিলে কী এমন হতো ? বিএনপিকে সমাবেশ করতে না দিয়ে সরকার প্রথম বাস মিস করেছে। ফাস্ট দে মিস দ্য ট্রেন।’’

বি চৌধুরী বলেন, ‘‘এরপর সরকারি দল ১২ জানুয়ারি নিষেধাজ্ঞার ভেতরে সমাবেশ করলো। ওই সময়ে তারা যদি সমাবেশ না করতো তা হলে একটা কথা ছিলো। ওই সমাবেশ একা নিজেরা করে দ্বিতীয় বাসটি মিস করেছে সরকার। এভাবে তারা দুই বাস বাস মিস করেছে।’’

রিয়াজ রহমানের ওপর হামলার নি্‌ন্দা জানিয়ে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবিও জানান বি চৌধুরী।

তিনি জানান, রিয়াজ রহমান এখন সুস্থ আছেন। হাসপাতালে তার চিকিৎসা ভালো হচ্ছে।

রিয়াজ রহমানে আশু আরোগ্য কামনা করে বি. চৌধুরী অতীত স্মৃতিচারণ করেন।

তিনি বলেন, ‘‘আমি যখন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলাম, তখন আমার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন রিয়াজ রহমান। তার মা ড. আমেনা রহমান জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা ছিলেন। আমার সহকর্মী ছিলেন। তাদের পরিবারের সঙ্গে আমার গভীরভাবে সম্পর্ক রয়েছে। এমন একজন সজ্জন ও ভালো মানুষকে গুলি করা হয়েছে, এটা নিন্দার ভাষা আমার নেই্।’’

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।