কার্যালয়ের গেইটে ফের তালা, অবরুদ্ধ থেকেই আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন খালেদা

১৫ দিন ধরে গুলশান নিজ কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ হয়ে আছেন বিএনপি চেয়ারপারস বেগম খালেদা জিয়া। তিন সেখানে অবস্থান করেই চলমান আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় না দেখে কার্যালয় ছাড়বেন না।

বেগম জিয়া গত ৪ জানুয়ারি থেকেই গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। মূল ফটকে তখন থেকেই একাধিকবার তালা লাগানো ও খোলার ‘নাটক’ করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে সেখানে আবারো তালা লাগানো হয় বলে জানিয়েছেন চেয়ারপারসনের প্রেসউইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার।

 
সরকারের পক্ষ থেকে খালেদাকে অবরুদ্ধ করার কথা অস্বীকার করা হলেও কার্যালয় থেকে শুধু নিজ বাসায় যাওয়ার অনুমতি দেয়া হচ্ছে। খালেদা জিয়াও গৃহবন্দী হওয়ার চেয়ে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকাকেই বেছে নিয়েছেন।

 

এ অবস্থায় তিনি সারা দেশের অবরোধ কর্মসূচির খোঁজখবর নিচ্ছেন। কথা বলছেন জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গেও। খালেদার কার্যালয় ঘিরে পুলিশি কড়াকড়ি থাকায় দলের কোনো নেতাকর্মী স্বাভাবিকভাবে সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না। সংশ্লিষ্ট সড়কে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচলে এখনো বাধা দিচ্ছে পুলিশ।

অবরুদ্ধ কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় অনেকটা শুয়ে-বসে সময় কাটছে বিএনপি চেয়ারপারসনের। মাঝে মধ্যে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান ও অন্যান্য নেত্রীর সঙ্গে গল্প করে বেশির ভাগ সময় কাটছে তার। বর্তমানে কার্যালয়ে রয়েছেন সেলিমা রহমান, এম এ কাইয়ুম, মারুফ কামাল খান, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার ছাড়াও অফিস সহকারী ও চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা স্কোয়াডের সদস্যরা।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশান কার্যালয়ে আসেন বেগম খালেদা জিয়া। সেদিন তিনি দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দেখার জন্য নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যেতে চাইলে পুলিশ তাকে বাধা দেয়।

 

পর দিন রোববার পুলিশ এই কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা দেয়। একই সঙ্গে কার্যালয়ের সামনে বিপুল পুলিশ মোতায়েন এবং রাস্তায় ইট, বালু ও মাটিভর্তি ১১টি ট্রাক দিয়ে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়।

 

৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার উদ্দেশ্যে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ পিপার স্প্রে করে। এরপর থেকে বেগম খালেদা জিয়া কার্যালয়েই আছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।