প্রতিটি বেআইনি হত্যাকাণ্ডের হত্যার জন্য ক্ষমতাসীনরা দায়ী থাকবে: ২০ দল

প্রতিটি বেআইনি হত্যাকাণ্ডের জন্য সকলের বিরুদ্ধে আগামীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বুধবার বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান স্বাক্ষরিত ২০-দলীয় জোটের এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

 

এতে বলা হয়, জনগণের আন্দোলনে ক্ষমতা হারাবার ভয়ে শাসকগোষ্ঠী রক্তের নেশায় উন্মাদ হয়ে উঠেছে। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার, অপহরণ-গুম-খুন, নাশকতা-অন্তর্ঘাত চালিয়েও শেষ রক্ষা হচ্ছে না দেখে তারা এখন তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যার তাণ্ডবে মেতে উঠেছে।

 

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনি, মতিঝিলে নড়াইলের পৌর কাউন্সিলর ইমরুল কায়েস ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ছাত্রদল নেতা মতিউর রহমানকে গুলি করে হত্যার ঘটনা বিচারবহির্ভূত বেআইনি হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ নিকৃষ্ট উদাহরণ।

 

এর আগে এই কর্মসূচি চলাকালে নাটোরে ছাত্রদল নেতা রাকিব হোসেন, সিংড়ায় ছাত্রদল কর্মী রায়হান আলী, রাজশাহীতে বিএনপি কর্মী মজিরউদ্দীন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে বিএনপি কর্মী মন্তাজ আলী, নোয়াখালীর সেনবাগে যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান রুবেল, বেগমগঞ্জে ছাত্রদল কর্মী মহসিনউদ্দীন, সোনাইমুড়িতে ছাত্রদল কর্মী মোরশেদ আলম পারভেজ এবং চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী ও আওয়ামী  সন্ত্রাসীরা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত এই বর্বর হত্যালীলা বন্ধ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর সদস্যদের এমন উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করার ও বেআইনি হত্যাকাণ্ড ঘটাবার কোনো অধিকার দেয়া হয়নি। প্রতিটি হত্যাকান্ডের জন্য ক্ষমতাসীনদের অবশ্যই দায়ী থাকতে হবে এবং জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আগামীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এতে বলা হয়, সুবিধাভোগী, ‘দলবাজ ও পক্ষাপাতদুষ্ট অল্প কিছু কর্মকর্তার অতি উৎসাহ ও বাড়াবাড়ির কারণে সেই সুনাম ক্ষুন্ন হতে পারে না। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সকল বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে আমরা নিরপেক্ষভাবে আইনসম্মতপন্থায় কর্তব্য পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। তারা আমাদের প্রতিপক্ষ নন। আমরাও তাদের বিরুদ্ধে নই।’

 

আটকাবস্থায় বিচারবহির্ভূত হত্যকাণ্ডের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ পর্যায় থেকে শান্তিরক্ষার নামে দেখা মাত্র গুলি, বিচার ছাড়াই হত্যা এবং দলীয় সন্ত্রাসীদের আইন হাতে তুলে নেয়ার উস্কানি দেয়া হচ্ছে।

 

যৌথ অভিযানের নামে বিভিন্ন জনপদে বিরোধীদল সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ-লুঠতরাজ এবং পরিবারের সদস্যদের লাঞ্ছিত করার ঘৃণ্য ঘটনা ঘটছে। এসব হানাদারি কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ না করলে দায়ভার হুকুমদাতা ও পরিকল্পনাকারীদেরকেই বহন করতে হবে বলে এতে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

 

২০-দলীয় জোটের দাবি, ভোটের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং একটি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার কায়েমের লক্ষ্যে জনগণের চলমান আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক। এ আন্দোলন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও অধিকার আদায়ের আন্দোলন।

 

‘সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফেনীতে উপজেলা চেয়ারম্যান একরামকে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা গুলি করে মেরে গাড়িসহ পুড়িয়ে অঙ্গার করে দিয়েছে। সেই সন্ত্রাস-আশ্রিত রাজনীতির ধারকরাই এখন বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে নারী ও শিশুসহ নিরাপরাধ মানুষকে পেট্টোল বোমা মেরে আগুনে পুড়িয়ে পৈশাচিকভাবে হত্যা করছে’ অভিযোগ বিএনপি জোটের।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, রাজনৈতিক সংকটকে রাজনৈতিকভাবে সমাধানের দেশি-বিদেশী আহ্বানকে উপেক্ষা করে দমন-পীড়নের পথে সমাধানের অপচেষ্টা এবং বিরোধী দলের শীর্ষ রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত কুৎসা ও হুমকির পরিণাম শুভ হবে না।

 

রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে অতীত সন্ত্রাসী তৎপরতার হুকুমদাতাদেরও আগামীতে আইনামলে আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এজন্য সকলকে সংযত ও পরিণামদর্শী হতে এতে আহ্বান জানানো হয়।

 

এছাড়া হানাহানি ও দমন-পীড়নের পথ ছেড়ে সমঝোতার লক্ষ্যে পরিস্থিতিকে দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় ২০-দলীয় জোট। বিবৃতিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সন্ত্রাসীদেরকে ‘খুনের ছাড়পত্র’ দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হত্যার চক্রান্তের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।