চলমান অবরোধ কর্মসূচিতে এবার যোগ হচ্ছে হরতাল

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী এক সপ্তাহ রাজপথে থেকে কঠোরভাবে কর্মসূচি পালন করার জন্য ইতিমধ্যে বিএনপি ও জোটের শরিক দলের নেতা-কর্মীদের বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ অন্যান্য সড়ক-মহাসড়কে অবরোধ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট জেলা ও থানার নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলনের কৌশল অনুযায়ী কেন্দ্রের নির্দেশে স্থানীয় বিএনপির ডাকে বিভিন্ন জেলায় হরতাল পালিত হচ্ছে। আজ নোয়াখালী ও চাঁদপুরে হরতাল চলছে। রবিবার বগুড়ায় টানা ৪৮ ঘণ্টা ও বৃহত্তর চট্টগ্রামে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকা হয়েছে। এর আগে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় হরতাল পালিত হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণীপর্যায়ের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলমান কর্মসূচিতেই অবিচল থাকবে ২০ দল। আন্দোলনের সফলতার বিষয়েও আশাবাদী তারা।

চলতি সপ্তাহে বিএনপি জোটের টানা অবরোধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়াচ্ছে। ফলে আগামী এক সপ্তাহ ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ বিবেচনায় এনে এ সময় সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে রাজপথে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে অবরোধের পাশাপাশি রবিবার অথবা সোমবার থেকে টানা হরতালের ডাক দেয়া হতে পারে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, মামলা-হামলা-গণগ্রেপ্তারে আন্দোলন থামবে না, বরং আরো বাড়বে। সরকার যদি দ্রুত আলোচনা-সমঝোতার উদ্যোগ না নেয়, তাহলে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তারাই দায়ী থাকবে।

এদিকে রবিবার ভারত সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিন দিনের এই সফরে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, চলমান সঙ্কট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা আরো বাড়িয়েছে বিএনপি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক যুক্তরাষ্ট্র রয়েছেন। যুক্তরাজ্য সরকারের সাথেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেশী দেশের সাথেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের মনোভাবের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে, এমন দাবি করছেন বিএনপির কোনো কোনো নেতা।

জানা গেছে, আন্দোলন চাঙ্গা রাখতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন বেগম খালেদা জিয়া। শুক্রবারও বিভিন্ন জেলা, থানা ও ওয়ার্ডপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলেছেন তিনি।

অবরোধ-হরতালের ১৮ দিন পার হওয়ার পর এই সময়টাকে আন্দোলনের মাঝামাঝি সময় বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, আরো কিছু দিন এভাবে চললে আন্দোলনের ফল তাদের পক্ষেই আসবে।

গত ৬ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে টানা অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ২০ দল। সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে অবরোধের পাশাপাশি কখনো কেন্দ্রের ডাকে, কখনো স্থানীয় সংগঠনের ডাকে হরতাল চলছে।

আন্দোলন দমাতে এ পর্যন্ত বিএনপি জোটের প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব মো: শাহজাহানও রয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।