জাতির স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত: খালেদা জিয়া

 বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের সংগ্রামে দেশ ও জাতির স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছেন।  বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ রবিবার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশ এখন গণতন্ত্রের পরিবর্তে শেখ হাসিনার মনোতন্ত্র এবং ইচ্ছাতন্ত্রে প্রবেশ করেছে। ইচ্ছামতো গুলি করে আন্দোলনকারীদের হত্যার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে দলীয়করণকৃত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে এবং দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে।’

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইইউসহ পৃথিবীর উন্নত রাষ্ট্রসমূহ, মানবাধিকার সংস্থা ও সংগঠনসমূহের উদ্বেগ সত্ত্বেও অবৈধ সরকার প্রতিনিয়ত ক্রসফায়ারের মাধ্যমে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাইকারি হারে হত্যা করছে।’

তিনি দাবি করেন, জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনকে কলুষিত করার কু-মানসে সরকারি এজেন্টরা পেট্রোল বোমা হামলার মাধ্যমে মানুষ হত্যা করে তার দায় বিএনপিসহ ২০-দলীয় জোটের ওপর দোষ চাপানোর পুরনো কৌশল অবলম্বন করছে। অত্যন্ত চাতুরতার সঙ্গে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটকে আওয়ামী প্রচার কেন্দ্রে পরিণত করেছে।

 

‘আমরা অবশ্যই পেট্রোল বোমা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করছি। কিন্তু বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরকে পরিকল্পিতভাবে এর জন্য ঢালাওভাবে দায়ী করাকেও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বস্তুতঃ এটা ঐতিহ্যগতভাবে আওয়ামী অপরাজনীতির পুরনো সংস্কৃতি’ যোগ করেন সালাহউদ্দিন।

 

তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা করার জন্য সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে- ‘এক মাঘে শীত যায় না, এই দিন দিন না, আরো দিন আছে।’

 

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘অবৈধ এতিম মন্ত্রীরা জনসভা করে বেগম জিয়াকে ‘ভাতে মারার’ ‘পানিতে মারার’ ঘোষণা দিয়েছেন। এ যেন গণতন্ত্রকামী সংগ্রামী জনগণের বিরুদ্ধে বিজাতীয় শত্রুদের আস্ফালন।’

 

এ সময় তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়েছেন-জনগণের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের সংগ্রামে তিনি দেশ ও জাতির স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।’

সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এদেশের জনগণ দুঃশাসনের কবলে পড়েছে এবং গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে শেখ হাসিনার প্রহসনের একতরফা নির্বাচনের কারণে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করায় এই রাজনৈতিক সমস্যার সূত্রপাত, যে সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনা এককভাবেই নিয়েছেন।’  ‘সংবিধান সংশোধনীর জন্য গঠিত ১৫ সদস্যের সকল সদস্য সর্বসম্মতভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। সুপ্রিমকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আগেই এই সংশোধনী পাশ করে সরকার। গণতন্ত্র গিলে খেয়েছে আওয়ামী লীগ বার বারই। আওয়ামী লীগের ইতিহাস গণতন্ত্র হত্যার ইতিহাস’ যোগ করেন তিনি।

 

বিএনপি মুখপাত্র বলেন, ‘গণতন্ত্র হত্যাকারী সর্ববিনাশী আওয়ামী শক্তিকে বিতাড়নের এই সংগ্রামে দেশবাসীকে সাময়িক ত্যাগ স্বীকারের জন্য আমরা বিনীত আহবান জানাই। জনদাদি আদায়ের এই কষ্ট, ও শোক-বেদনা গণতন্ত্রের বিজয় অর্জনের মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতায়নকে সাফল্যমণ্ডিত করবে।’

 

এছাড়া এখনো বেগম জিয়ার আবাসস্থল গুলশান কার্যালয়ে ইন্টারনেট, টেলিফোন ও ক্যাবল নেটওয়ার্কসহ সকল বৈদ্যুতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনস্থাপন করা হয়নি জানিয়ে অবিলম্বে সংযোগ পুনস্থাপন করা না হলে হরতাল ও অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।