যেকোনো সময়ে খালেদার গুলশান কার্যালয়ে তল্লাশি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে তল্লাশি চালাতে আদালতের আদেশের কপি গুলশান থানায় এসে পৌঁছেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার লুৎফুল কবীর রবিবার সন্ধ্যার আগেই এ আদেশ থানায় পৌঁছায় বলে জানিয়েছেন।

 

গুলশান থানার ওসি রফিকুল ইসলাম খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা রবিবার সন্ধ্যার আগেই আদালতের তল্লাশির নির্দেশের কপি পেয়েছি। তবে কখন কীভাবে তল্লাশি হবে এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।’ এ ব্যাপারে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, ‘যখন প্রয়োজন মনে হবে, তখন তল্লাশি করা হবে।’

 

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় গুলশান থানায় দায়ের বিস্ফোরক মামলায় পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম এস এম মাসুদ জামান তল্লাশির এ আদেশ দেন।

 

পুলিশের আবেদনে বলা হয়, খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তির আনাগোনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশে নাশকতার চালানোর পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও ওই কার্যালয়ে আত্মগোপন করে থাকতে পারেন।

 

এছাড়া নাশকতার কাজে ব্যবহারের জন্য বিস্ফোরক দ্রব্য মজুত করে রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে ওই কার্যালয়টি ব্যবহার হতে পারে। এরপর গতকাল রাত সোয়া নয়টার দিকে গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়া হয়।

 

খালেদা জিয়া গত ৪ জানুয়ারি থেকে গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। কয়েকজন নেতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অর্ধশত ব্যক্তি সেখানে আছেন। এখন সেখানে খালেদা জিয়ার আত্মীয়স্বজন ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আর গ্রেপ্তারের ভয়ে কার্যালয়ের ভেতরে থাকা অন্যরা কেউ বেরও হচ্ছেন না।

 

এ অবস্থায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত। তবে সেই পরোয়ানা এখনও কোনো থানায় পৌঁছায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এ মামলা দুটির পরবর্তী তারিখ ধার্য আছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।