শুলশান কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে ক্ষমতাসীন চিকিৎসকদের নাটক

বুধবার দুপুর একটার দিকে অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার চেয়ে স্মারকলিপি দিতে গিয়ে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের কর্মকর্তার সঙ্গে বিতণ্ডা করেছেন ক্ষমতাসীন চিকিৎসকদের একটি দল। পরে অবশ্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন তার প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির।

 

এর আগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হকের নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন চিকিৎসকদের ১০ সদস্যের একটি দল গুলশান কার্যালয়ে আসেন। তারা একটি স্মারকলিপি খালেদা জিয়াকে দিতে গেলে প্রধান ফটকের পকেট গেটে দাঁড়িয়ে শায়রুল কবির জানতে চান- স্মারকলিপির একটি কপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও দেয়া হবে কিনা? চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দলের সদস্য সিরাজগঞ্জের এমপি হাবিবে মিল্লাত তার জবাবে বলেন, ‘আমরা এসব বিষয়ে সংসদে কথা বলেছি। নতুন করে দেয়ার কিছু নেই।’

 

এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং শায়রুল কবিরকে ধমক দিয়ে কথা বলতে থাকেন। তখন শায়রুল কবিরও মিল্লাতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আস্তে কথা বলুন। এখানে তো আপনারা নাটক করতে এসেছেন।’

 

এ সময় পেছন থেকে প্রতিনিধি দলের আরেক সদস্য শায়রুলের দিকে তেড়ে যান। তিনি বলতে থাকেন, ‘আপনারা হুকুমের আসামি। ভেতরে বসে আছেন কেন? রাজনীতি করতে চাইলে বাইরে আসেন।’

 

উত্তেজিত ওই সদস্য বলেন, ‘আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বলে আপনাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ করবই।’ এ সময় বেশ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সিনিয়রদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকরা ওই চিকিৎসকের নাম জানতে চাইলেও তিনি এড়িয়ে যান। এরপর শায়রুল কবির খালেদা জিয়ার পক্ষে রুহুল হকের কাছ থেকে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।

 

এ ঘটনার পরে বাইরে এসে হাবিবে মিল্লাত সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখানে প্রতিবাদলিপি দিতে এসেছি। অবরোধ-হরতালের নামে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, হত্যা বন্ধ হওয়া জরুরি। আশা করি খালেদা জিয়া মানবতাবিরোধী এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন।’

 

হাবিবে মিল্লাতের পাশ থেকে আরেক সংসদ সদস্য ডা. ইউনুস আলী সরকার বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মধ্যে অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার না হলে আমরা তাদের প্রতিহত করব।’

 

ডা. আ ফ ম রুহুল হক বলেন, ‘খালেদা জিয়া মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। এজন্য অবরোধ-হরতালে পেট্রোল বোমা দিয়ে মানুষ হত্যা করছেন।’তিনি খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। তারপর দেখব কারা পেট্রোল বোমা মারে।’

 

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বনানী মাঠে হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ক্ষমতাসীন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।