আলোচনায় শীর্ষে আব্বাস, মিন্টু ও আমীর খসরু

ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে মেয়র পদপ্রার্থীদের নামও অনেকটা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপি সূত্র জানায়, এর মধ্যে ঢাকা উত্তরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও দক্ষিণে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নাম ভাবা হচ্ছে।

 

অন্যদিকে চট্টগ্রামে বিএনপি চেয়াপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কথা ভাবছে বিএনপি। তবে মির্জা আব্বাসের ব্যাপারে কিছু সংশয় থাকায় আরেকজনকে বিকল্প খোঁজা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগে ঢাকা দক্ষিণ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় ও যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলুকে প্রার্থী হিসেবে চিন্তা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা ওই এলাকার ভোটার না হওয়ায় সে চিন্তা বাদ দেওয়া হয়।

 

জানা গেছে, ঢাকা সিটিকে দুই ভাগ করায় হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ কম। এরপরও ঢাকা উত্তর সিটি মেয়র পদে ২০ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আরো রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু, রুহুল কবীর রিজভী ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 

জানা গেছে, আবদুল আওয়াল মিন্টুকে প্রার্থী করা গেলে তার বিকল্প ভাবছেন না খালেদা জিয়া। তবে এর বাইরে ক্লিন ইমেজের নেতা রিজভী আহমেদের কথাও ভেবে রাখা হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে। দলে তার জনপ্রিয়তাও রয়েছে। অসুস্থ রিজভীর ওপর গত পাঁচ বছরে হামলা-মামলা এবং সর্বশেষ টানা ৩৪ দিনের রিমান্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের সহানুভূতিও রয়েছে তার প্রতি।

 

সাবেক মেয়র ও ঢাকা মহানগর বিএনপি সভাপতি মির্জা আব্বাসের নাম ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে আলোচনায় সবার আগে থাকলেও তিনি নির্বাচনে আগ্রহী নন বলে জানা যায়। যদি তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন সে ক্ষেত্রে হয়তো অন্য কোনো আলোচনা ছাড়া তিনিই মনোনয়ন পাবেন। তিনি ওই এলাকার ভোটার এবং বেশ কয়েকবারের এমপি ছিলেন।

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় আরো রয়েছেন যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম ও ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল।

 

এ ছাড়া চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক আইজিপি আবদুল কাউয়ুমের নামও শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল কারাগারে রয়েছেন। বাকি সবাই আত্মগোপনে। আবদুস সালাম, আবদুল কাউয়ুম, এম এ কাউয়ুমও ঢাকার ভোটার।

 

এদিকে চট্টগ্রাম সিটিতে মেয়র পদে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছাড়াও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, বর্তমান মেয়র মনজুরুল আলম মনজু ও চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন।

 

তারা সবাই ওই এলাকার ভোটার। চট্টগ্রামের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বর্তমান মেয়র মনজুর আলমের বিপক্ষে একাট্টা সেখানকার দলের নেতা-কর্মীরা। মেয়র থাককালীন দলের নেতা-কর্মীদের দিকে তার দৃষ্টি ছিল না। তাই এবার একজন নেতাকেই প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত জানাবে কেন্দ্র।

 

সূত্র জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির চিন্তা এখন পর্যন্ত ইতিবাচক হলেও দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনটি মৌলিক প্রশ্নে দ্বিধায় আছেন। তবে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানান, তিন সিটি নির্বাচন সামনে রেখে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং নীতিনির্ধারকেরা তিনটি বিষয় নিয়ে চিন্তিত।

 

প্রথমত, সংসদ নির্বাচনের জন্য টানা কর্মসূচি চালিয়ে হঠাৎ সিটি নির্বাচনে গেলে চলমান আন্দোলনের পরিণতি কী হবে। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে গেলে দল-সমর্থিত মেয়র, বিশেষ করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা নির্বিঘ্নে গণসংযোগ চালাতে পারবেন কি না। এবং তৃতীয়ত, এ সরকারের অধীনে নির্বাচন করে জিতলেও আদতে কোনো লাভ হবে কি না।

 

বিএনপির নেতারা মনে করছেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের অনেককে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। আবার সম্ভাব্য অধিকাংশ প্রার্থীর নামে মামলা থাকায় তাঁরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ অবস্থায় যোগ্য ব্যক্তিরা প্রার্থী হতে পারবেন কি না, অথবা প্রার্থী হলে নির্বিঘ্নে ভোট চাইতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।

 

বর্তমান সরকারের অধীনে এর আগেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি। রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন।

 

দলটির নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা কাজ করতে পারেননি। পাঁচ মেয়রের মধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে সরকার মামলা দিয়েছে। এদের দুজন এখন কারাবন্দী। একজন গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

 

গতকাল বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও নজরুল ইসলাম খান বিষয়টির উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের অসংখ্য উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রকে বদলে দেওয়া হয়েছে। তাদের হয় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, না হয় তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়েছে। যাতে করে তারা কাজ করতে না পারেন।

 

তাদের বহিষ্কার করে সরকারি দলের লোকদের সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ সিটি নির্বাচনে গেলে চলমান অবরোধ-হরতালের কী হবে—এ নিয়েও নানান কথা রয়েছে দলের ভেতর-বাইরে। এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, যখন নির্বাচনে যাব তখন এই প্রশ্ন আসবে।

 

নির্বাচনে অংশ নেওয়া না-নেওয়ার বিষয়ে বিএনপিতে দুই রকম মত আছে। তবে নির্বাচনের পক্ষের কয়েকজন নেতা প্রকাশ্য হলেও নির্বাচনবিরোধীরা এখনো দৃশ্যমান নন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে নানা মাধ্যমে কথা চালাচালি হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটা ঠিক, কিছুসংখ্যক লোকের আগ্রহ আছে। আবার কিছু লোকের আপত্তিও আছে। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন করে লাভ কী? তো এ ব্যাপারে কথাবার্তা যে হচ্ছে না, তা না। কিন্তু এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আশা করছি, শিগগিরই হয়তো সিদ্ধান্ত হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।