জনগণের স্বাধীনতা নিয়ে ২০ দলের সংশয়

স্বাধীনতার মাসে দেশের জনগণ কতটুকু স্বাধীন, এই সংশয় প্রকাশ করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। ‘স্বাধীন দেশে আমরা যেন বেশি মাত্রায় পরাধীন’, এমন আশঙ্কা করে তাদের অভিযোগ, দেশের মানুষের ভোট দেয়ার অধিকার নেই; স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও চলাফেরার স্বাধীনতা নেই।

শুক্রবার বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলুর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ করে বিরোধী জোটটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাধীনতার চার দশক পর গোটা জাতি একটি কর্তৃত্ববাদী, দুর্নীতিবাজ, লুটেরা ও খুনি সরকারের অত্যাচার-নিপীড়ন ও জুলুম-নির্যাতনের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত অবস্থায় পালন করেছে মহান দিবস। দেশের মানুষের প্রাণ স্বৈরতন্ত্রের পদতলে ওষ্ঠাগত।

২০ দলীয় জোট বলে, “যে দেশে বিচারের মানদণ্ড নির্ধারিত হয় স্বৈরশাসকদের ইশারায়; যে দেশে নিরীহ জনগণকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ দেয়া হয়; যে দেশে জনগণের সম্পদ লুটেরাদের দখলে, সেই দেশে এই স্বাধীনতার মাসে সাতজন বীর শ্রেষ্ঠসহ লাখো শহীদের আত্মা নীরবে কাঁদে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “যে দেশে মানুষের ভোট দেয়ার অধিকার নেই; স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ ও চলাফেরার স্বাধীনতা নেই, সেই দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা কতটুকু স্বাধীন তা ভাববার সময় এসেছে।” স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য জনগণকে ফিরিয়ে দিতে চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা অবসানে সরকার আলোচনার ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।

‘স্বাধীন দেশে আমরা যেন বেশি মাত্রায় পরাধীন’ এমন আশঙ্কা করে বিবৃতিতে বলা হয়,  জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য পরিচালিত শাসনব্যবস্থা- গণতন্ত্রের এই সংজ্ঞা এখন মূল্যহীন। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার প্রবল বাসনাই দেশকে ভয়াবহ সংকটে নিপতিত করেছে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়,  বিরোধী দলীয় সদর দফতর তিন মাস ধরে তালাবদ্ধ; মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারাসহ অগণিত নেতা-কর্মী কারান্তরীণ, দেশব্যাপী অসংখ্য নেতা-কর্মী নিখোঁজ কিংবা গুম, হাজার হাজার নেতা-কর্মী পুলিশি নির্যাতনের ভয়ে আত্মগোপনে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে প্রতিনিয়ত বন্দুকযুদ্ধের নামে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হচ্ছে। এই বিভীষিকাময় পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী সরকার সংকট সমাধানের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছে না।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে এই স্বাধীনতার মাসে অপহরণ করা প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতাকেই অপহরণ করার শামিল দাবি করে ২০ দলের আশা,  “সালাহ উদ্দিন ও ২০ দলীয় জোটের অপহৃত নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে দিয়ে সরকার স্বাধীনতার মাসের পবিত্রতা রক্ষা করবে।”

একই সঙ্গে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার অধীনে অবিলম্বে সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি অর্থপূর্ণ সংলাপ আয়োজনে সরকার সচেষ্ট হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয় বিবৃতিতে।

নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের পূণ্যস্নানে পদদলিত হয়ে নারী ও শিশুসহ ১০ জনের প্রাণহানি এবং অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন ২০ দল।

পৃথক এক বিবৃতিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও লাঙ্গলবন্দে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের পূণ্যস্নানে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনায় শোক ও সমবেদনা জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।