সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে আজ ফের বৈঠক

সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার দুপুরে কমিশন সচিবালয়ে এই বৈঠক হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ।

 

 

নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেছেন, ‘রবিবারের বৈঠকে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শুধু আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আজ (সোমবার) আবার আমরা বসব। বিকেল নাগাদ সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারব।’

 

রবিবারের প্রথম দফা বৈঠকে কমিশন সেনা মোতায়েনের বিষয়ে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতামত নেয়। তাদের মতামতে নীতিগতভাবে সিটি নির্বাচনে চার দিনের জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয় বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

 

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাড়া বেশিরভাগ প্রার্থীই নির্বাচনে সেনাবাহিনীর মোতায়েনের পক্ষে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাদের অব্যাহত দাবির মুখেই নির্বাচন কমিশন সেনা মোতায়েনের প্রসঙ্গটি আমলে এনেছে।

 

আগামী ২৮ এপ্রিল তিন সিটি করপোরেশনে একযোগে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোট ঘিরে আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে চার দিনের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে পুলিশ, র্যা ব ও অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।

 

কমিশনের সভা শেষে একজন নির্বাচন কমিশনার এ নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে এ খবর উড়িয়ে আরেক কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) সিদ্ধান্ত হলে তো আজকে (সোমবার) আর বৈঠকের দরকার হতো না।’

 

গতকাল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বৈঠক শেষে দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সাংবাদিকদের বলেন, ‘কোনো বাহিনীর কতজন থাকবে তা তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা) জানিয়েছেন। এ পর্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রয়েছে, কিন্তু এটা ঝড়ের আগে থমথমে অবস্থাও হতে পারে। আমরা কোনো রকম ঝুঁকি নিতে পারি না। সেনা মোতায়েন হয় ভোটের কয়েক দিন আগে। সবাই যাতে প্রস্তুত থাকে তার জন্য বলেছি।’

 

তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী মোতায়েন হবে কি না সে বিষয়ে দুই-এক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখতে। কেউ বল প্রয়োগ করলে দ্বিগুণ বল প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে প্রতিহত করতে হবে।’

 

সিইসি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেশি ফোর্স, বেশি অস্ত্র সরঞ্জাম দিতে চেয়েছে। আমরা বলেছি বেশি জিনিস দিলেই হবে না, কার্যকর ব্যবস্থা দিতে হবে।’ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) মিলনায়তনে সিইসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক, মোহাম্মদ আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জাবেদ আলী, মো. শাহ নেওয়াজ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লে. জে. আবু বেলাল মো. শফিউল হক, পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. নাজিমউদ্দীন, ডিজিএফআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আকবর হোসেন, কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এম মকবুল হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেসুর রহমান, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার মো. জিল্লার রহমান, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।