আওয়ামী লীগের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে: খালেদা

সিটি নির্বাচনে সরকারি দল আওয়ামী লীগের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, এ কারণে দিশেহারা হয়ে তারা একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। রবিবার দুপুরে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চান।

 

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের অপরাধের বিরুদ্ধে আমি ঢাকা ও চট্টগ্রামবাসীকে আগামী ২৮ এপ্রিল মঙ্গলবার নিরব প্রতিশোধ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’ ভোটারদের উদ্দেশে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার নিজেদের স্বার্থেই বুঝে-শুনে ভোট দিতে হবে এবং ভোটের ফল বুঝে নিতে হবে।

 

আমি নগরবাসীর প্রতি আবেদন করছি, আপনারা দয়া করে ঢাকা দক্ষিণে আমাদের সমর্থিত প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে ‘মগ’, ঢাকা উত্তরে তাবিথ আউয়ালকে ‘বাস’ এবং চট্টগ্রামে এম মনজুর আলমকে ‘কমলালেবু’ মার্কায় ভোট দিন। কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলার পদেও আমাদের সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দিন।’

 

তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভোট অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক বিরাট শক্তি। ভোট হচ্ছে জনগণের এক বিরাট ক্ষমতা। সঠিকভাবে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করুন। নিরব বিপ্লব ঘটান।’ খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। মা-বোন, মুরুব্বি, তরুণসহ সব বয়স ও শ্রেণী-পেশার ভোটার সকাল সকাল ভোট কেন্দ্রে যাবেন। লাইন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেবেন। অনিয়ম ও কারচুপি দেখলে সবাই মিলে প্রতিবাদ করবেন।’

 

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘মনে রাখবেন, দেশের সম্পদ লুটপাট করে এবং আপনাদের রক্ত শুষে এরা টাকার পাহাড় গড়েছে। কাজেই এরা যে টাকা বিলাচ্ছে, সেটা আপনাদেরই টাকা। ওদের কাছ থেকে এ টাকা নিলেও ভোট বিক্রি করবেন না। টাকা নেবেন কিন্তু বিবেক অনুযায়ী ভোট দেবেন। কারণ, ভোট বিক্রি আর ঈমান বিক্রি একই কথা।’

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা যেভাবে উগ্র-সন্ত্রাসী ও দাম্ভিক হয়ে উঠেছে, কোনোভাবে এই তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের ফল কেড়ে নিতে পারলে তারা আপনাদের আর মানুষ বলেই গণ্য করবে না। জোর করে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে গেলে মা-বোনেরা নিরাপদে থাকতে পারবেন না।

 

ব্যবসায়ীরা ঠিক মতো ব্যবসা করতে পারবেন না। প্রবীণ ও সম্মানিত নাগরিকদের সম্মান থাকবে না। তরুণদের ভবিষ্যত ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা আরো বিপথগামী হবে। শিক্ষাঙ্গন আরো কলুষিত ও সন্ত্রাস কবলিত হবে।’

 

তিনি বলেন, ‘তাই এবার বুঝে-শুনে ভোট দিতে হবে। আপনার ভোট হোক অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভোট। আপনারা ভোট হোক বাসযোগ্য, পরিচ্ছন্ন, উন্নত, আধুনিক, যানজটমুক্ত, পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগরী গড়ার পক্ষের ভোট।’

 

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা নবীন ও প্রবীণ এবং অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয় করে প্রার্থী বাছাই করেছি। আমরা মিথ্যা ও অসম্ভব প্রতিশ্রুতি দেয়ার পক্ষে নই। শুধু বলব- আপনি দয়া করে পরিবর্তনের পক্ষে, স্বস্তির পক্ষে, শান্তির পক্ষে আপনার ভোটটি দিন। গুণ্ডামী, সন্ত্রাস, অপমানের বিরুদ্ধে ভোট দিন। মা-বোনের সম্ভ্রম রক্ষার জন্য ভোট দিন।’

 

তিনি ভোট শেষে বিকেল থেকে ভোট কেন্দ্রে পাহারা বসাবার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। বলেন, ‘গণনা শেষে ফলাফল বুঝে নিয়ে আপনারা কেন্দ্র ত্যাগ করবেন। যাতে আপনাদের দেয়া রায় ওরা বদলে ফেলতে না পারে।’

 

কোনো উস্কানিতে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ভোটের দিন এবং এর পরে কোনো উস্কানির ফাঁদে পা না দেয়ার এবং কোনো গুজবে কান না দেয়ার জন্য আমি অনুরোধ করছি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তার ফলাফল মেনে নেয়ার জন্যও আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আর সন্ত্রাস ও কারচুপি হলে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে প্রতিটি কেন্দ্র ও এলাকা থেকে।’

 

তিনি বলেন, ‘ভোট গ্রহণ, গণনা, ফল ঘোষণা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় যারা নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন, তাদের সকলের প্রতি আমার অনুরোধ- সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অর্পিত পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন। কারও প্রতি পক্ষপাতিত্ব করবেন না।’

 

খালেদা জিয়া শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি বিনা ভোটে রাজকীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। এই দম্ভ ত্যাগ করুন। মনে রাখবেন, সব দিন সমান যায় না। এ পর্যন্ত যাই করেছেন, তিনটি সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হতে দিন। এতে আপনার ক্ষমতা যাচ্ছে না।’

 

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় বসতে এবং বসার পর আপনি অনেক অপরাধ-অপকর্ম-অপকৌশল করেছেন। এখন রাষ্ট্রক্ষমতা আপনার কাছে বাঘের পিঠে সওয়ার হওয়ার মতো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। আপনি নামতে ভয় পাচ্ছেন।’

 

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আপনি (শেখ হাসিনা) ভয় পাবেন না। আমরা আপনার মতো প্রতিশোধপ্রবণ নই। আপনি নম্র, ভদ্র, সংযমী হোন। উগ্র স্বভাব ও জিঘাংসার মনোবৃত্তি বদলান। গণতন্ত্র ও সংলাপের পথে আসুন। আমরা আপনাকে সহি সালামতে নিরাপদে নামতে সাহায্য করব এবং একই সমতলে দাঁড়িয়ে নির্বাচন করব। মানুষ যাকে খুশি বেছে নেবে। আসুন, সেই পথটা অন্তত খুলে দেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।